"রানওয়েতে আধঘণ্টা আটকে রাখা হল আমাকে!" খড়দহ থেকে মোদী সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার
খড়দহ: প্রথম দফার ভোটের মুখেই এবার সরাসরি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর হেনস্থার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার খড়দহের সূর্য সেন নগর খেলার মাঠের জনসভা থেকে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে রানওয়েতে অকারণে তাঁর বিমান আধঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকী, হেমন্ত সোরেনের সঙ্গেও একই আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।খড়দহের সভা থেকে মমতা অভিযোগ করেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেকক্ষণ আগে বেরোলেও বিমানবন্দরে তাঁকে অহেতুক দেরি করানো হয়েছে। তাঁর কথায়, "আমাকে আধঘণ্টা রানওয়েতে আটকে রাখা হল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল। কিন্তু, আমাকে ক্লিয়ারেন্স দিল না। কালকে হেমন্ত সোরেনের প্লেনও ৪০ মিনিট আটকে রেখে দিয়েছিল। এয়ারপোর্টে বিজেপির লোকগুলো বসে আছে। তারা চায় না, আমি ঠিক সময়ে সভায় পৌঁছই।"[TECHTARANGA-POST:8208]শুধু বিমানবন্দর নয়, সভার অনুমতি নিয়েও এদিন তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের সভা করার অনুমতি পর্যন্ত আটকে দিচ্ছে বিজেপি!বিজেপি সারা দেশ 'জোর করে' জিতেছে বলেও এদিন দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে ইভিএম ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে এবং বিহারেও বাইরে থেকে লোক এনে জিতেছে বিজেপি। মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, "বাংলাকে টার্গেট করেছ, আমরা দিল্লিকে টার্গেট করেছি। ২০২৬ সালেই তোমাদের পতন হবে।"[TECHTARANGA-POST:8206]মমতার অভিযোগ, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। এদিন তিনি বলেন, বাঙালি দেখলেই 'বাংলাদেশি' আর পাঞ্জাবি দেখলেই 'খালিস্তানি' বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের নাম ভোটারতালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে। তিনি থাকতে বাংলায় কোনও এনআরসি ক্যাম্প করতে দেবেন না বলে ফের সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়েও এদিন ফের ব্যঙ্গ করেন মমতা। তাঁর দাবি, মোদীর পকেটে ১০ টাকার নোট থাকা আসলে 'স্ক্রিপ্টেড' এবং তাঁর নিরাপত্তাবাহিনীই ওই মুড়ি বানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিজেপির কড়াকড়িরও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, জোর করে কারও খাদ্যাভ্যাস বদলে দেওয়া যাবে না। [TECHTARANGA-POST:8204]ভোটের মুখে মমতার এই 'রানওয়ে বিতর্ক' এবং ২০২৬-এর হুঁশিয়ারি যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।