বিদেশ সফরে অতিরিক্ত ট্যাক্স? খোদ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাক্ট চেক’ ঘিরে তোলপাড় দেশ!
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের আমদানির বর্ধিত খরচ সামাল দিতে সাধারণ মানুষের বিদেশ ভ্রমণের উপর অতিরিক্ত সেস বা কর বসানোর পথে হাঁটছে কেন্দ্র — এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমন এক রিপোর্টে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, সরকারের একেবারে শীর্ষস্তরে এই নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, সমস্ত জল্পনা ও বিতর্ক ওড়াতে এবার খোদ ‘ফ্যাক্ট চেকার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদমাধ্যমের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9182]সচরাচর এই ধরনের কোনও খবর ভুয়ো প্রমাণিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) ফ্যাক্ট চেক করে থাকে। কিন্তু, যেহেতু এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সম্ভবত সেই কারণেই খোদ প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে এই খবরের সত্যতা খারিজ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী স্বয়ং এভাবে এগিয়ে এসে কোনও খবরের ফ্যাক্ট চেক করছেন, এমন ঘটনা দেশে সম্ভবত এই প্রথম ঘটল।[TECHTARANGA-POST:9181]সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “এই তথ্যগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মধ্যে একবিন্দুও সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণের উপরে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”[TECHTARANGA-POST:9180]প্রধানমন্ত্রী আরও সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের ‘ইজ অফ লিভিং’ (সহজ জীবনযাত্রা) এবং দেশে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ (সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ) বাড়াতে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ ও বাধ্যপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি তড়িঘড়ি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয় এবং এই ভুলের জন্য আলাদাভাবে দুঃখপ্রকাশও করে।[TECHTARANGA-POST:9178]প্রধানমন্ত্রীর এই ফ্যাক্ট চেকের পরই এই ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর খ্যাতি আজ বিশ্বজুড়ে। আর, দেশের ভিতরে কিছু দেশবিরোধী শক্তি আছে, যারা বারবার প্রধানমন্ত্রীকে ভুল প্রমাণ করার এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”[TECHTARANGA-POST:9177]উল্লেখ্য, জ্বালানি বাঁচানো এবং বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সদ্যই দেশবাসীকে একাধিক পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু, সেই পরামর্শ হাতিয়ার করেই যে এভাবে কর বসানোর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তা ভাবেনি রাজনৈতিক মহল। খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই বেনজির হস্তক্ষেপে আপাতত সেই জল্পনায় জল পড়ল।