তিলজলায় শুভেন্দুর বুলডোজারে ‘ব্রেক’! হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, মুখ পুড়ল আগের সরকারের?
কলকাতা: তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানে আপাতত দাঁড়ি টানল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার তপসিয়ার একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং দু'জনের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুরু হয়েছিল বুলডোজার দিয়ে সেই বহুতল ভাঙার কাজ। কিন্তু, শুক্রবার সেই প্রক্রিয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করলেন বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী। একইসঙ্গে, রাজ্যের পূর্বতন সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল আদালত।[TECHTARANGA-POST:9153]বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও নির্মাণই আইন না মেনে ভেঙে ফেলা যাবে না। তবে, বাড়ি ভাঙায় স্থগিতাদেশ দিলেও ওই বহুতলের বাসিন্দাদের জন্য এখনই কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে না আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই ঠিকানায় আপাতত কোনও ব্যবসা চালানো যাবে না। কেউ সেখানে বসবাস করতেও পারবেন না। এবং বাড়ির ভাঙা অংশ কোনওভাবেই মেরামত করা যাবে না। অর্থাৎ, বর্তমানে জায়গাটিতে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9152]শহরে বেআইনি নির্মাণের রমরমা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ গজিয়ে উঠেছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই সংক্রান্ত আদালতের একাধিক পূর্বতন নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার তা মানতে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করেনি। সরকারের এই দীর্ঘদিনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’র কারণেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়েছে বলে আদালত মনে করছে।[TECHTARANGA-POST:9151]২০২৬-এর নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে। তিলজলার ঘটনার পরই তিনি নির্দেশ দেন, বিল্ডিং প্ল্যানহীন ওই বহুতল ভেঙে ফেলতে হবে। কসবা, তিলজলা, একবালপুর বা মোমিনপুরের মতো এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ ও জলের লাইন কেটে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9148]আগামী ২২ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন হাইকোর্ট কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।