কত সোনার মালকিন? ‘বান্ধবী’র পর এবার সব্যসাচীর স্ত্রীর দরজায় পুলিশ, বাড়ি বয়ে সাঁটানো হলো নোটিস!
বিধাননগর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের গ্রেপ্তারি ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় চলছে। এবার সেই তদন্তে নেমে তিল তিল করে জমা হওয়া এক বিপুল স্বর্ণভাণ্ডারের হদিশ পেলেন তদন্তকারীরা, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে পুলিশের। বাইরের রাজ্যের আইডি ব্যবহার করে আধার জালিয়াতির অভিযোগ, সামশেরগঞ্জে গ্রেপ্তার যুবকসব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধারের পর, তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ কেজি নিত্যনতুন ডিজাইনের সোনার গয়না। বান্ধবীর এই বিপুল সোনা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের মূল স্ক্যানারে চলে এলেন সব্যসাচীর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত। এত সোনা এবং অর্থের উৎস ঠিক কী, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব পেতে এবার সরাসরি সব্যসাচীপত্নীকে তলব করল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:10220]গত ৮ জুন তোলাবাজি ও একাধিক মারাত্মক দুর্নীতি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন প্রভাবশালী নেতা সব্যসাচী দত্ত। তদন্তকারীদের দাবি, স্বামীর গ্রেপ্তানির খবর পাওয়া মাত্রই রাজারহাটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ছেড়ে রাতারাতি গা ঢাকা দেন স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাঁর সন্ধান চালালেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল সব্যসাচীর বাড়িতে পৌঁছায়। ইন্দ্রাণীদেবী বাড়িতে না থাকায় শেষমেশ আইনি নিয়ম মেনে তাঁর বাড়ির দেওয়ালেই সশরীরে হাজিরার অফিশিয়াল নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে আসে পুলিশ। যেখানে দ্রুত তাঁকে থানায় এসে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10216]আসলে সব্যসাচীর ফ্ল্যাট থেকে সাড়ে তিন কেজি সোনা এবং তা কেনার বিপুল রসিদ মেলার পর থেকেই তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বোধ করছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু সোমবার রাতে নদিয়ার তেহট্টে সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার দুটি বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালাতেই পুরো মোড় ঘুরে যায়। টিনার ঘর থেকে উদ্ধার হয় কেজি কেজি সোনার গয়না, যার কোনও বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি। বান্ধবী ও স্বামীর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া এই সাড়ে ছয় কেজিরও বেশি সোনার সাথে ইন্দ্রাণী দত্তের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা এবং এই বিপুল সম্পত্তির আসল মালকিন কে, তা জানতেই মরিয়া বিধাননগর থানার পুলিশ। এখন দেখার, এই নোটিসের পর পলাতক ইন্দ্রাণীদেবী পুলিশের সামনে আত্মসমর্পণ করেন নাকি আইনি জট আরও বাড়ে।