"ভেবেছিল লুকিয়ে বাঁচবে!" আফ্রিকায় আইএসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড নিকেশ হতেই গর্জালেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন: বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস (ISIS)-এর বিরুদ্ধে এক মস্ত বড় সাফল্য পেল মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি অনুসারে, আফ্রিকায় এক অত্যন্ত জটিল এবং গোপন যৌথ সামরিক অভিযানে খতম করা হল আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু বিলাল আল মিনুকিকে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছেন। আমেরিকা ও নাইজেরিয়ার সেনার যৌথ কমান্ডো অভিযানে এই কুখ্যাত বৈশ্বিক জঙ্গি খতম হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9186]তবে, ঠিক কোন গোপন ডেরায় এই অভিযান চালানো হয়েছিল, কতক্ষণ ধরে এই রুদ্ধশ্বাস অপারেশন চলেছিল কিংবা কীভাবে আবু বিলালকে নিখুঁতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তরফেও এখনও পর্যন্ত আলাদা করে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সরাসরি নির্দেশেই এই অত্যন্ত জটিল অভিযানটি সফল করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9185]এই মেগা সাফল্যের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ (Truth Social) একটি পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, "ও ভেবেছিল লুকিয়ে বাঁচবে। কিন্তু, সর্বত্রই আমাদের লোকজন আছে, যারা সারাক্ষণ ওর ওপর কড়া নজর রেখে যাচ্ছিল। ও আর আফ্রিকার মানুষকে ভয় দেখাতে পারবে না, কিংবা আমেরিকানদেরও টার্গেট করতে পারবে না। ও খতম হওয়ার পর বিশ্বজুড়েই আইএসের কার্যকলাপ এবার থমকে যাবে।" এই অত্যন্ত বিপজ্জনক অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে পূর্ণ সহায়তা করার জন্য নাইজেরিয়ার সেনাকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।[TECHTARANGA-POST:9184]আবু বিলাল আল মিনুকি ছিল আন্তর্জাতিক মহলে এক সাংঘাতিক বিপজ্জনক এবং মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। বিগত ২০২৩ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন তাকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক জঙ্গি’ (Specially Designated Global Terrorist) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। আফ্রিকার বুকে আইএসের জাল বিস্তার এবং একাধিক নাশকতামূলক হামলার মূল ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হত এই আবু বিলালের মাথা থেকেই।[TECHTARANGA-POST:9182]ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম আফ্রিকায় আইএসের ঘাঁটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ওই অঞ্চলেই আইএসের প্রায় ৭ হাজার সক্রিয় সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে। ২০১৫ সালে স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠী 'বোকো হারাম' আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার পর থেকেই এই অঞ্চলে আইএসের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তবে, সংগঠনের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু বিলালের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে আফ্রিকার মাটিতে আইএসের কোমর অনেকটাই ভেঙে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।