আইনি জটিলতায় জুলাই সনদ ও গণভোট: হাইকোর্টের রুলে থমকে গেল সরকারের পরিকল্পনা!
ঢাকা: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকারের নেওয়া দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত— ‘জুলাই সনদ’ এবং ‘গণভোট’—এখন আইনি লড়াইয়ের মুখে। সংবিধানের সঙ্গে পরস্পরবিরোধী হওয়ার যুক্তিতে করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ হাইকোর্ট এই দুই বিষয়ে 'রুল' জারি করেছে। আদালতের এই আদেশের ফলে সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ল।[TECHTARANGA-POST:6933]সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে দুই আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁদের দাবি, সংবিধানে বর্তমানে গণভোট করার কোনো বিধান নেই এবং রাষ্ট্রপতি এমন কোনো আদেশ জারি করতে পারেন না। হাইকোর্টের দ্বিবৈঞ্চিক বেঞ্চ এই বিষয়ে সরকারের কাছে জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে এবং আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6932]এই আদেশের ফলে কেবল গণভোট বা জুলাই সনদ নয়, বরং সংসদের ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ বা উচ্চকক্ষ গঠনের মতো সিদ্ধান্তগুলোও আপাতত ঝুলে গেল। জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির আদালতে যুক্তি দেন যে, এই বিষয়গুলি অবৈধ ঘোষিত হলে জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।[TECHTARANGA-POST:6929]কী এই 'জুলাই সনদ' এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে হওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং সেই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মৃতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে এই বিশেষ সনদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। একে এক ধরণের জাতীয় অঙ্গীকারনামা বলা যেতে পারে, যেখানে আন্দোলনের মূল চেতনাকে রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6928]কেন এই সনদের অবতারণা?আন্দোলনের স্বীকৃতি: জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চিরস্থায়ী মর্যাদা দেওয়া। রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা: অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেওয়া হয়েছে, তার একটি আইনি ও নৈতিক ভিত্তি তৈরি করা।[TECHTARANGA-POST:6936]শহিদ ও আহতদের সম্মান: আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা।সরকার চেয়েছিল সংবিধানের আমূল পরিবর্তন বা রাষ্ট্রের বড় কোনো সিদ্ধান্তে সরাসরি জনগণের মত নিতে। কিন্তু আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো সংস্থান না থাকায় এটি সরাসরি আইনি বাধার মুখে পড়েছে।[TECHTARANGA-POST:6925]উচ্চ আদালতের রুল চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এই দুটি বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।