১০ মিনিটেই ঘাড়ধাক্কা, বন্ধ অন্দরের দরজা! মমতার বাড়ি পাহারা দিচ্ছে দলের যুবকেরা, কালীঘাটে চরম ধুন্ধুমার
কলকাতা: কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে এখন যেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা বলয় ঘিরে তিল ধারণের জায়গা নেই। বুধবার সন্ধ্যার পর বৃহস্পতিবার সকালেও লালবাজারের পক্ষ থেকে আরও ৬ জন পিএসও পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে মমতার বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির অন্দরে ঢোকা তো দূরের কথা, তাঁদের কার্যত মেইন গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এমনকী এক অফিসারকে ভেতরে গিয়ে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হলেও মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে বাইরে বার করে দেওয়া হয়। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ম্যাডাম সিদ্ধান্ত বদল না করা পর্যন্ত লালবাজারের কারও ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই। বর্তমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির যাবতীয় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্তরে, দলেরই বেশ কয়েকজন অত্যন্ত বিশ্বাসী ও আস্থাভাজন যুবক![TECHTARANGA-POST:10068]বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের চেনা ছবিটা এক ধাক্কায় বদলে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ও বিশেষ বাহিনীর জওয়ানরা বাইরে বারবার টহল দিচ্ছেন, কিন্তু মমতার ঘরের দরজা তাঁদের জন্য বন্ধ। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, “ম্যাডামের সিদ্ধান্ত উনি নতুন কোনও পিএসও নেবেন না।” আসলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট পাঁচজন পিএসও-র মধ্যে তিনজন ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী ও দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত। প্রশাসন তাঁদের আচমকা নিজেদের পুরনো ইউনিটে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই ক্ষোভের জেরেই নতুন পাঠানো পুলিশ আধিকারিকদের ১০ মিনিটে বিদায় করে এখন দলের যুবকদের ওপরই সুরক্ষার পুরো ভরসা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10043]মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দলীয় সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তোপ দেগেছেন। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দাবি করা হয়েছে যে, জেড প্লাস নিরাপত্তা এখনও বহাল রয়েছে এবং এটি কেবলই একটি রুটিন প্রশাসনিক রদবদল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতাপন্থী পাঁচ বিধায়ক। কুণাল নিজে উদ্যোগী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, যাতে সৌজন্যমূলকভাবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে মমতার পুরনো ও বিশ্বাসী পিএসও-দেরই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নবান্ন ও কালীঘাটের এই বেনজির সংঘাতের মাঝে কুণালের এই মধ্যস্থতায় আপাতত কিছুটা ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই সূত্রের খবর।