আমবাগানে বিজেপি কর্মীর ‘হাত-পা বাঁধা’ ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! খুনের অভিযোগে কাঠগড়ায় তৃণমূল
কল্যাণী: নদিয়ার কল্যাণী থানার সাহেববাগান এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ শিকদার (২৮)। তিনি এলাকার অত্যন্ত সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রেললাইনের ধারে একটি আমবাগানে বিশ্বজিতের দেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। [TECHTARANGA-POST:10641]খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কল্যাণী থানার পুলিশ ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দেহটি উদ্ধার করে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র ধোঁয়াশা; এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত খুন— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:10657]এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন’ বলে দাবি করে সরাসরি শাসকদল তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে পদ্মশিবির। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন বিশ্বজিৎ। আর সেই কারণেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল। এর আগেও তাঁর উপর শারীরিক হেনস্থা চালানো হয়েছে এবং তাঁর দোকানে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। মৃতের বাবা কল্যাণী মণ্ডল-২ এর ১২৭ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও তাঁদের একাধিকবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং বিশ্বজিৎকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।নবগ্রামে জাল আধার তৈরির চক্রের হদিস, গ্রেপ্তার নাবালকযদিও শোকে ভেঙে পড়া মৃতের পরিবার এখনও নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে বিশ্বজিৎ কোনওভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে দাবি করে তাঁরা পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপরই আস্থা রাখছেন। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণী ও সংলগ্ন সাহেববাগান এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।