২৬/১১-র পর এবার পহেলগাঁও হামলা! লশকর প্রধান হাফিজ় সইদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চার্জশিট এনআইএ-র
নয়াদিল্লি: মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলার মূল চক্রী তথা পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বার প্রধান হাফিজ সইদের হাত এবার প্রসারিত হয়েছিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওতেও। পহেলগাঁওয়ের নৃশংস জঙ্গিহানায় লশকর প্রধানের সরাসরি যোগসূত্রের কথা এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সম্প্রতি এই মামলার একটি অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, যেখানে মূল অভিযুক্তদের তালিকায় নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে হাফিজ সইদের। ভারতের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ এবং সীমান্তের ওপার থেকে নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বেআইনি কার্যকলাপ দমন আইন (UAPA)-এর একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।[TECHTARANGA-POST:10629]গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। হামলার পরপরই লশকরের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) এর দায় স্বীকার করলেও, পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে তারা দাবি করে যে এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ ছিল না। তবে এনআইএ-র তদন্তে এই হামলার পেছনে থাকা গভীর পাক-ষড়যন্ত্রের জাল পুরোপুরি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। [TECHTARANGA-POST:10621]তদন্তকারী সংস্থার পূর্বের চার্জশিট অনুযায়ী, লাহৌরে বসে এই হামলার নীলনকশা তৈরি করেছিল লশকরের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’। তার নির্দেশেই হামলার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল এলাকা রেকি করেছিল ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানি নামে তিন কুখ্যাত জঙ্গি।পশ্চিমবঙ্গ সফরে অমিত শাহ, উষ্ণ অভ্যর্থনা বিজেপিরপহেলগাঁও হামলার তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গোয়েন্দারা, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতকে সরাসরি প্রমাণ করে। হামলার সময় জঙ্গিদের হাতে থাকা উন্নত প্রযুক্তির বিশেষ ক্যামেরাগুলি ট্র্যাক করে জানা গিয়েছে, সেগুলি মূলত আমেরিকা থেকে চিনে পাঠানো হয়েছিল। [TECHTARANGA-POST:10616]সেখান থেকে কোনোভাবে সেই সামরিক স্তরের ক্যামেরা পৌঁছয় পাক সেনার হাতে এবং পরবর্তীতে পাক সেনা তা তুলে দেয় লশকর-এ-ত্যায়বার জঙ্গিদের ট্র্যাকিং ও রেকর্ডিংয়ের জন্য। এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ একত্রিত করেই এবার লশকর সুপ্রিমো হাফিজ সইদকে এই মামলায় কোণঠাসা করল এনআইএ। ভারতের মাটিতে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই নয়া চার্জশিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।