ঠোঁটে সেলাইয়ের আগে অ্যানাস্থেশিয়া, তারপরই অবনতি! শিশুমৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে হাসপাতাল
ঠোঁটে সামান্য ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৮ মাসের একরত্তি। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে বলে অভিযোগ পরিবারের। শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার মৃত্যু হল শিশুটির। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কেরলের কান্নুর জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।[TECHTARANGA-POST:10837]মৃত শিশুর নাম দেবাংশ শৌর্য। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাদের একমাত্র সন্তানের। ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ জুলাই বাড়িতে খেলতে গিয়ে শিশুটির ঠোঁট কেটে যায়। রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থানে সেলাই করার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের আগে শিশুটিকে অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার পর থেকেই শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। লাইফ সাপোর্টে রেখেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে। শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয় দেবাংশের।টানা ৫ দিন তুমুল দুর্যোগ!জানা গিয়েছে, দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষার পর সন্তান পেয়েছিলেন ওই দম্পতি। দেবাংশ তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল। শিশুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের তরফে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় FIR দায়ের করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার পর আচমকাই শিশুটির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের বক্তব্য, সমস্ত নিয়ম মেনে ওষুধের সঠিক ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তবে কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাস্থেশিয়ার পর এমন অপ্রত্যাশিত জটিলতা তৈরি হতে পারে।