Hidden Stories (বাংলা)

বকেয়া লাখ লাখ টাকা, নোটিশ ছিঁড়ে ‘দাদাগিরি’! অবশেষে ৮ বছর পর দাপুটে নেতার বিলাসবহুল গাড়ি টেনে নিয়ে গেল পুলিশ

মালদহ: রাজনৈতিক ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে ব্যাংকের টাকা ফাঁকি দেওয়া এবং লোন রিকভারি এজেন্টদের ভয় দেখানোর দিন বোধহয় এবার শেষ। লোন শোধ না করে বছরের পর বছর ধরে গাড়ি আটকে রেখে ‘দাদাগিরি’ চালানোর অভিযোগে শেষমেশ বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। রাজ্য রাজনীতির পটপরিবর্তন ঘটতেই যেন এক লহমায় হাওয়া বেরিয়ে গেল চাঁচলের এক দাপুটে নেতার। সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রবিবার মালদহের চাঁচলের আজাদপল্লিতে ওই নেতার বাড়ি ঘেরাও করে তাঁর সাধের পাঁচ লাখি গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:9676]পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মালদহ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য তথা ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি সামিউল ইসলাম। অভিযোগ, গত ২০১৬ সালে পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। গাড়ি কেনার পর মাত্র ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা শোধ করেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় টালবাহানা। রিকভারি এজেন্সির কর্মী দেবাশিস চক্রবর্তীর দাবি, গত ২০১৮ সাল থেকে গাড়ির সমস্ত ইএমআই বা ঋণের কিস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন ওই নেতা। বর্তমানে সুদ ও আসল মিলিয়ে বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।[TECHTARANGA-POST:9654]ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছরে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য সামিউল ইসলামকে একাধিকবার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এই নেতা সেই সমস্ত নোটিশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের এলাকাতেই বহাল তবিয়তে গাড়িটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। লোন রিকভারি এজেন্টের কর্মীরা গাড়ি চাইতে গেলে তাঁদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই খোলস ছেড়ে বেরোয় আইন। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার রিকভারি এজেন্টের প্রতিনিধিরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন নেতার দুয়ারে।[TECHTARANGA-POST:9672]এলাকার দাপুটে নেতার বাড়ি থেকে এভাবে পুলিশ ডেকে গাড়ি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রবিবার শোরগোল পড়ে যায় গোটা আজাদপল্লিতে। রিকভারি এজেন্সির কর্মী দেবাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক রঙ দেখে নয়, সম্পূর্ণ আদালতের নির্দেশ ও সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে নিজের বাড়ির সামনে থেকে এভাবে গাড়ি বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং রাজনৈতিক মহলে চরম অস্বস্তির মুখে পড়া সত্ত্বেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত সামিউল ইসলামের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সাফাই পাওয়া যায়নি।

বকেয়া লাখ লাখ টাকা, নোটিশ ছিঁড়ে ‘দাদাগিরি’! অবশেষে ৮ বছর পর দাপুটে নেতার বিলাসবহুল গাড়ি টেনে নিয়ে গেল পুলিশ

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার