সালিশি সভার নামে ডেকে নৃশংস অত্যাচার! লোহার শাবলের কোপে রক্তাক্ত তৃণমূল সভাপতি, ৮ দিন যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর মর্মান্তিক মৃত্যু
মঙ্গলকোট: পুজো কমিটির টাকার হিসাবকে কেন্দ্র করে বসা সালিশি সভায় ডেকে এক প্রবীণ তৃণমূল নেতাকে লোহার শাবল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল একদল গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। নৃশংস এই মারধরের জেরে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে টানা ৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার সকালে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ওই নেতা। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার পুরাতনহাট গ্রামে। মৃত নেতার নাম মিহির ঘোষ (৬২)। তিনি মঙ্গলকোট অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে কড়া পুলিশি নজরদারি চালানো হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9803]পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ মে গ্রামেরই কয়েকজন বাসিন্দা মিহিরবাবুকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পুরাতনহাটের ধর্মরাজতলায় এলাকার বারোয়ারি পুজো কমিটির বার্ষিক আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মৃতের পুত্রবধূ প্রিয়াঙ্কা ঘোষের অভিযোগ, সভা চলাকালীন হিসাবের গরমিল নিয়ে আচমকাই তীব্র বচসার সৃষ্টি হয়। সেই সময় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন চরম মারমুখী হয়ে মিহিরবাবুর ওপর চড়াও হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে লোহার শাবল দিয়ে একের পর এক কোপ মারা হতে থাকে। শাবলের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই প্রবীণ তৃণমূল নেতা। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:9801]রবিবার সকালে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মিহির ঘোষের মৃত্যু হতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই ঘটনার পর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলকোট থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি খুনের মামলা রুজু করে কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এই নৃশংস মারধরের নেপথ্যে আর কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কিনা, তা সবদিক থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিনই মিহিরবাবুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পাঁচজন এলাকাছাড়া, তাদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ।