উত্তপ্ত মণিপুর: নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে গুলিবৃষ্টি, প্রাক্তন সেনা-সহ দুই নাগা ব্যক্তির মৃত্যুতে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক
ইম্ফল: শান্তির পরিবেশ ফেরার আগেই ফের রক্ত ঝরল মণিপুরে। গত তিন বছর ধরে চলা জাতিদাঙ্গায় মাঝেমধ্যেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটি। এবার উরখুল জেলার হাইওয়েতে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই চলল অতর্কিত গুলিবৃষ্টি। এই ঘটনায় এস ডব্লিউ চিনাশাং এবং ইয়ারুইঙ্গাম ভাশুম নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে চিনাশাং ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান ছিলেন।[TECHTARANGA-POST:8132] প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ইম্ফল থেকে উরখুল যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি যাত্রীবোঝাই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তার মধ্যেই একটি গাড়িতে থাকা ওই দুই ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। তাঁর সফরের পরেই এমন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক নজরদারি।[TECHTARANGA-POST:8147]পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তাঁদের খোঁজে গোটা এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এবারের হামলার শিকার দুই ব্যক্তিই নাগা সম্প্রদায়ের হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। [TECHTARANGA-POST:8142]ইতিমদধ্যেই নাগা সংগঠন 'তাংখুল নাগা লং'-এর পক্ষ থেকে এই হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে যাত্রীদের একটি বড় দল যখন নিরাপত্তা বেষ্টনীর ঘেরাটোপে উরখুলের দিকে যাচ্ছিল, তখনই তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার জন্য সরাসরি কুকি-জো গোষ্ঠীকে দায়ী করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নাগা নেতৃত্বরা। গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলায় এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল।[TECHTARANGA-POST:8141]শনিবারই মণিপুরের ৫টি জেলায় দীর্ঘদিনের কার্ফু ও ইন্টারনেট বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের এমন প্রাণঘাতী হামলা জনমনে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। কুকি ও মেতেই সংঘর্ষের পাশাপাশি এবার নাগা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা মণিপুরের জাতিগত সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। [TECHTARANGA-POST:8127]বর্তমানে উরখুল-সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন করে অশান্তি এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।