গাড়িতে একের পর এক ডিমবর্ষণ! শীতলকুচির ঘটনায় এবার সটান হাইকোর্টে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
কলকাতা: কোচবিহারের শীতলকুচিতে মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার বামনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়ার ঘটনায় এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ডিওয়াইএফআই (DYFI) রাজ্য সম্পাদিকা। বুধবার এই ডিম-কাণ্ডে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করার আর্জি জানানো হলে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ মীনাক্ষীকে মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়ম মেনে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছে আদালত।[TECHTARANGA-POST:10711]কিছুদিন আগেই শীতলকুচিতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় সিপিএম কর্মী মন্টু মিয়ার। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রথমে এই ঘটনায় এফআইআর (FIR) নিতেও অস্বীকার করে। পাশাপাশি, মুম্বইয়ে কাজ করতে গিয়ে মৃত শীতলকুচির এক পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও পুলিশ অসহযোগিতা করে বলে দাবি ওঠে। এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে ও পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে মঙ্গলবার কোচবিহারের জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বামেরা। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই স্থানীয় বাজার এলাকায় মীনাক্ষীর গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে ডিম ছোড়া শুরু হয়। এই হামলার আঙুল সরাসরি শাসকদল বিজেপির দিকে তুলেছে বাম নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের বিরুদ্ধেও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মীনাক্ষী।এসপি র আশ্বাসের পর কোচবিহারে CPIM এর অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহার উল্লেখ্য, গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মঙ্গলবারই মহুয়ার আইনজীবী এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানালেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই সাধারণ তালিকায় শুনানি হবে। তবে মহুয়ার মামলা গতি না পেলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়িতে ডিম হামলার ঘটনাটি হাইকোর্টের বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পরই ফেসবুক লাইভ করে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি কোচবিহারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মীনাক্ষী, আর এবার আদালতের অনুমতি মেলায় এই ঘটনাকে আইনি লড়াইয়ে নিয়ে যেতে পুরোদমে প্রস্তুত আলিমুদ্দিন।