সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে কলকাতায় মেগা ধর্না! কুণাল-শোভনদেবের কড়া হুঁশিয়ারিতে তোলপাড়!
কলকাতা: দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবার মারাত্মকভাবে উত্তাল হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। লাদাখের এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর জীবন বাঁচাতে এবং তাঁর দাবিগুলির সমর্থনে এবার খোদ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে ধর্নায় বসল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই ধর্না ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এক নতুন সমীকরণ ও তুমুল চর্চা তৈরি হয়েছে। কারণ, ধর্না মঞ্চে যাঁরা বসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই দলের ‘কালীঘাটপন্থী’ শিবিরের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত, আর মাত্র কয়েকদিন আগেই সোনমের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তৃণমূলের মোট ৮ জন হেভিওয়েট নেতা ধর্নায় বসেন, যার মধ্যে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, খলিফা আহমেদ এবং অশোক দেবের মতো জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ স্তরের মুখদের সক্রিয়ভাবে শামিল হতে দেখা যায়।[TECHTARANGA-POST:11029]ধর্না মঞ্চ থেকে সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করে সুর চড়ান তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সোনম ওয়াংচুক দেশের শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় লাগাতার অনশন চালাচ্ছেন। ধারাবাহিক অনশনের ফলে তাঁর শরীর ও স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সোনমের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং ওঁর সুস্বাস্থ্যও কামনা করেছেন। নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশেই তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দলও দিল্লিতে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে এসেছে। এর পরেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে কুণাল যোগ করেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা যেভাবে দিন দিন ভেঙে পড়ছে, তাতে অবিলম্বে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। শুধু দায়সারা মেডিকেল টিম পাঠানো নয়, ওঁর তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দ্রুত সরকারি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে অনশন ভাঙানোর ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রকে।[TECHTARANGA-POST:11015]অন্যদিকে, তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রবীণ রাজ্য মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এদিন বিধানসভার ভেতরেই বিষয়টি নিয়ে ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ তোলার চেষ্টা করেন, যা ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। শোভনদেববাবু বলেন, এই বিধানসভা বহু ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সাক্ষী। দেশের এবং বিশ্বের বহু ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে এই বিধানসভা থেকে অতীতেও নিঃশর্ত সমর্থন জানানো হয়েছে। আজকে সোনম ওয়াংচুক একটা অত্যন্ত জেনুইন ব্যাপারে আন্দোলন করছেন। যেখানে দেশজুড়ে লাগাতার শিক্ষা দুর্নীতি চলছে, সেই ব্যাপারে তিনি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি একাধারে আন্তর্জাতিক স্তরের পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানী, কোনও রাজনৈতিক দলের লোক নন। ১৯ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও যিনি সরকারে আছেন, তাঁর কোনও দায়বদ্ধতা দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার অন্তত ওঁর সঙ্গে কথা বলার রাস্তাটা খুলতে পারত। শোভনদেববাবু মোদী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন একজন মানুষ যিনি নিজের স্বার্থ ভুলে সমাজ নিয়ে আন্দোলন করছেন, ওঁর যদি হঠাৎ কোনও শারীরিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তবে সারা দেশবাসী রাস্তায় নামবে। আমরা সবরকমভাবে ওঁর পাশে আছি, কিন্তু যার সবচেয়ে আগে সাড়া দেওয়া দরকার, সেই কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পুরোপুরি রহস্যজনকভাবে চুপ করে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনমের মতো এক অরাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল একদিকে যেমন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে জনবিরোধী হিসেবে কাঠগড়ায় তুলতে চাইল, তেমনই বিধানসভার অন্দরে ‘কালীঘাটপন্থী’ শিবিরের এই ঝাঁঝালো সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল।