মুর্শিদাবাদে ট্রেন পোড়ানোর সেই স্মৃতি! ক্ষমতায় এসেই ২০১৯-এর ‘ফাইল’ খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
কলকাতা: ২০১৯ সালের সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি কি মনে আছে? যখন মুর্শিদাবাদে একের পর এক ট্রেনের কামরায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল, ভাঙচুর করা হচ্ছিল রেলের বিপুল সম্পত্তি। থমকে গিয়েছিল জনজীবন, দিনের পর দিন বাতিল করতে হয়েছিল দূরপাল্লার ট্রেন। এবার ক্ষমতায় এসেই সেই পুরনো এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘ফাইল’ নতুন করে খোলার কড়া নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু নির্দেশ দেওয়াই নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে লালবাজারে একটি বিশেষ সেল (Special Cell) খোলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কাকতালীয়ভাবে, রাজ্যে রেলের একাধিক প্রকল্পের পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতির দিনেই শুভেন্দু অধিকারীর এই বড় ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9788]নবান্ন সভাঘরে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই নাশকতার ঘটনায় যুক্ত দোষীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের আবহে মুর্শিদাবাদে যেভাবে রেলের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য ভবানীপুরে একটি বিশেষ আরপিএফ (RPF) অফিস তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন শুভেন্দু। সেখানে বসে আধুনিক কম্পিউটার ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে যাবতীয় পুরনো নথি এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের সনাক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় রেল পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি-কেও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এই বিষয়ে রাজ্যকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:9787]রেলের আইন অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা অত্যন্ত গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই তদন্তের ক্ষেত্রে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক উঠে আসছে— সেদিনের সেই পরিকল্পিত নাশকতার পেছনে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর যোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে সবচেয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রেনের কামরা পুড়িয়ে রেলের যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছিল, তা অভিযুক্তদের পকেট থেকেই উসুল করা হবে। যদি কোনো অপরাধী সেই ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে, তবে প্রয়োজনে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও রেলের বকেয়া টাকা আদায় করবে প্রশাসন। সরকারের এই মারমুখী মনোভাব দেখে বোঝাই যাচ্ছে, পুরনো ফাইল খোলার এই সিদ্ধান্ত আসলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে এক নতুন বার্তা।