রথের দিন কেন বৃষ্টি হবেই? নেপথ্যে রয়েছে জগন্নাথদেবকে ঘিরে কোন পৌরাণিক কাহিনি?
রথের দিনের বৃষ্টিকে ঘিরে শুধু আবহাওয়ার ব্যাখ্যাই নয়, রয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পৌরাণিক কাহিনিও। কথিত আছে, পুরীতে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর এক গভীর চিন্তায় পড়ে যান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। মন্দির তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা বৃদ্ধ কারিগরের ছদ্মবেশে নির্মাণ করেছেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। কিন্তু এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ - সেই বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন কে?[TECHTARANGA-POST:10834]রাজা যখন এই চিন্তায় ব্যাকুল, তখন দেবর্ষি নারদ তাঁকে পথ দেখান। তিনি পরামর্শ দেন, এই মহৎ কাজের জন্য স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মাকে আমন্ত্রণ জানাতে। নারদের কথামতো ব্রহ্মাকে নিমন্ত্রণ জানাতে ব্রহ্মলোকের উদ্দেশে যাত্রা করেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। কিন্তু দেবলোকের সময়ের হিসাব মর্ত্যের মতো নয়। ব্রহ্মলোকে অল্প সময় কাটলেও পৃথিবীতে কেটে যায় বহু বছর।[TECHTARANGA-POST:10811] দীর্ঘ সময় পর যখন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ব্রহ্মাকে সঙ্গে নিয়ে পুরীতে ফিরে আসেন, তখন পাল্টে গিয়েছে সবকিছু। মন্দির বালির স্তূপে ঢেকে গিয়েছে, বদলে গিয়েছে রাজ্য ও মানুষের পরিচয়। এমনকি তাঁকে আর কেউ রাজা হিসেবেও চিনতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত প্রজাপতি ব্রহ্মার হস্তক্ষেপে নিজের পরিচয় ফিরে পান ইন্দ্রদ্যুম্ন। এরপর শুভ তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আয়োজন। বিশাল যজ্ঞের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় মন্দির প্রতিষ্ঠার পবিত্র অনুষ্ঠান, যার পৌরহিত্য করেন স্বয়ং ব্রহ্মা।দালালচক্রে লাগাম টানতে স্বাস্থ্যভবন থেকেই নজরদারি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীরএই কাহিনির আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রী গুন্ডিচা দেবী। কথিত আছে, জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিজের মাতৃত্বের সুখ পর্যন্ত ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে জগন্নাথদেব তাঁকে আশীর্বাদ করেন। পুরাণ অনুযায়ী, জগন্নাথদেব প্রতিশ্রুতি দেন - প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথি থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত তিনি গুন্ডিচা দেবীর মন্দিরে অবস্থান করবেন। [TECHTARANGA-POST:10824]সেখানে তিনি দেবীর সন্তানের মতোই থাকবেন। সেই থেকেই প্রতি বছর রথযাত্রার দিনে রথে চেপে জগন্নাথদেব গুন্ডিচা মন্দিরে যান এবং দশমী তিথিতে আবার ফিরে আসেন শ্রীমন্দিরে। বিশ্বাস করা হয়, শ্রীক্ষেত্র থেকে রথে জগন্নাথদেবের যাত্রার সময় এবং রথ থেকে অবতরণের মুহূর্তে দেবতা ও গন্ধর্বরা স্বর্গ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করেন। সেই অলৌকিক পুষ্পবৃষ্টিই সাধারণ মানুষের চোখে বৃষ্টি হিসেবে ধরা দেয়। আর তাই লোকবিশ্বাসে আজও রয়ে গিয়েছে রথের দিনে যে বৃষ্টি নামে, তা আসলে জগন্নাথদেবকে ঘিরে দেবতাদের আনন্দ, ভক্তি ও আশীর্বাদের প্রকাশ।