ভোটাররা লাইনে, অথচ বুথ ফাঁকা করে ভোজে ব্যস্ত ভোটকর্মীরা! সাসপেন্ড সবাই
মেদিনীপুর: ভোট চলছে নাকি পিকনিক? ভোটারদের লম্বা লাইন রোদে পুড়ছে, আর বুথ ফাঁকা করে কবজি ডুবিয়ে মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ভোটকর্মীরা! গণতন্ত্রের উৎসবে এমনই এক নজিরবিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথ। তবে, বিষয়টি নজরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ বুথের সমস্ত কর্মীকে রাতারাতি সাসপেন্ড করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8330]পিংলার ৯ নম্বর বুথে সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লাইন আরও দীর্ঘ হয়। ঠিক সেই সময়েই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, ভোটারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রিসাইডিং অফিসার তাঁর পুরো টিম নিয়ে খেতে চলে যান! বুথের নিরাপত্তারক্ষীরা ভিড়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, “বাইরে আছি, পরে আসছি।” এমনকী, ওই সময় সেক্টর অফিসারেরও কোনও পাত্তা পাওয়া যায়নি।[TECHTARANGA-POST:8326]ঘটনার খবর পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর নির্দেশে ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার ও সমস্ত কর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়। ভোটারদের হয়রানি রুখতে তড়িঘড়ি ‘রিজার্ভ পোলিং পার্টি’ নামিয়ে ভোট প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:8327]প্রসঙ্গত, এদিন সকালেই পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ওসির অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির এজেন্টদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।” শুভেন্দুর সেই অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই বুথ ফাঁকা করে ভোটকর্মীদের ভোজের এই ঘটনা এলাকা আরও উত্তপ্ত করে তোলে।[TECHTARANGA-POST:8322]ভোটের ডিউটিতে এসে এমন অপেশাদার আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। গণতন্ত্রের কাজে কোনওরকম অবহেলা যে বরদাস্ত করা হবে না, এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিল কমিশন।