মাটি খুঁড়তেই বেরোলো কোটি কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ কেলেঙ্কারিতে এবার প্রশ্নের মুখে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল?
ডায়মন্ড হারবার: বালি বা কয়লা নয়, এবার খোদ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হলো কোটি কোটি টাকার ওষুধ! আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারের হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায়। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ওষুধের গায়ে স্পষ্ট লেখা রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের 'সেবাশ্রয়' শিবিরের লোগো। বাজেটের আগে উত্তরবঙ্গ সফরে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য আনা এই জীবনদায়ী ওষুধ কেন এভাবে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে পদ্ম শিবির। অভিযোগের তির গিয়ে পড়েছে মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদের দিকে। যদিও জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এই ওষুধগুলি আসলে মেয়াদ উত্তীর্ণ বা এক্সপায়ার্ড হয়ে গিয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:9864]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সরিষার হিঞ্চেবেড়িয়া এলাকায় আচমকাই জেসিবি বা মাটি কাটার মেশিন দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ চলছিল। আর তখনই মাটির নিচ থেকে থরে থরে বেরিয়ে আসতে থাকে বস্তাবন্দি প্রচুর ওষুধ। খবর জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ওষুধের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া ওষুধের গায়ে তৃণমূলের 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পের সিলমোহর থাকায় জল যে অনেক দূর গড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। উদ্ধার হওয়া এই ওষুধগুলির সত্যিই কোনো মেয়াদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ঠিক কী কারণে, কার নির্দেশে এভাবে সরকারি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ওষুধ মাটির নিচে গোপনে পুঁতে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:9833]তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভাতেই অত্যন্ত ধুমধাম করে চালু করা হয়েছিল এই 'সেবাশ্রয়' শিবির। যেখানে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং ওষুধ দেওয়া হতো। নিজের এই 'ডায়মন্ড হারবার মডেল' নিয়ে বারবার গর্ব প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে খোদ অভিষেককে। কিন্তু সেই সাধের প্রকল্প ঘিরেই এখন দুর্নীতির ছায়া। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে আসলে সাধারণ মানুষের জন্য আসা কোটি কোটি টাকার ওষুধ চুরি করা হয়েছিল। আর সেই চুরির ও দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করতেই সুকৌশলে ওষুধগুলি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়। কারণ, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উদ্ধার হওয়া বহু ওষুধের এখনও মেয়াদ ফুরিয়ে যায়নি। এই চরম টানাপোড়েনের মাঝে পুলিশি তদন্তের পরই আসল সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।