কালবৈশাখীর মরণকামড়: ঝড়-বজ্রপাতে বিপর্যস্ত উত্তর ভারত, মৃত ৩৪
তীব্র দাবদাহের পর মিলল স্বস্তি, কিন্তু তার বদলে প্রকৃতি দেখাল তার রুদ্ররূপ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে আছড়ে পড়া তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ ও বিহার মিলিয়ে মোট ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9614]উত্তরপ্রদেশে মৃত্যুমিছিল, বিপর্যস্ত ২০টি জেলাআবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়, দেওয়াল চাপা এবং বজ্রপাতের জেরে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:9605]বিহারে বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন ১৪ জনপ্রতিবেশী রাজ্য বিহারেও কালবৈশাখীর তাণ্ডব ছিল ভয়াবহ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে চলা ঝড়-বৃষ্টি এবং বিশেষ করে ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকায় মাটির বাড়ি ধসে এবং মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বিহারের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9601]পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যের পরিস্থিতিশুধু উত্তরপ্রদেশ বা বিহার নয়, কালবৈশাখীর কোপ থেকে বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির জেরে ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ঝাড়খণ্ড ও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকাতেও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9586]আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা: বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে এই মরশুমি ঝড় শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তর ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট বজায় থাকতে পারে। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝড়ের সময় বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।