‘টুকরে টুকরে গ্যাং-কে সংসদেও সমর্থন করে তৃণমূল’, শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে মোদীর বিস্ফোরক তোপ
নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাব্বিশের মহারণে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার তকমা সেঁটে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিলিগুড়ির জনসভা থেকে সরাসরি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তৃণমূলকে বিঁধলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, যারা শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন’স নেক’ কেটে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল, তৃণমূল সেই শক্তিদের রাস্তা থেকে সংসদ— সর্বত্র মদত দিচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:7951]প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, “বিজেপির কাছে শিলিগুড়ি করিডর দেশের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির করিডর। কিন্তু তৃণমূল সেই সব বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিদের পাশে দাঁড়ায় যারা ভারতকে খণ্ডবিখণ্ড করতে চায়। এটাই ওদের আসল চেহারা।” উত্তরবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই করিডরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।[TECHTARANGA-POST:7950]পাল্টা দিতে দেরি করেনি ঘাসফুল শিবিরও। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, “অনন্ত মহারাজ কোন দলের? বিজেপিই তো তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। তিনি যখন উত্তরবঙ্গ বা কোচবিহারকে আলাদা করার দাবি তোলেন, তখন কি তিনি ‘টুকরে টুকরে’ গ্যাংয়ের সদস্য নন? তাঁকে কি দল থেকে তাড়ানো হয়েছে?” তৃণমূলের দাবি, সীমান্ত রক্ষা ও করিডরের নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর, সেখানে রাজ্যকে দায়ী করা ভিত্তিহীন।[TECHTARANGA-POST:7895]রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির নিজস্ব সাংসদ অনন্ত মহারাজ যখন উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবিতে সরব হয়ে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন, ঠিক তখনই মোদীর মুখে এই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর তত্ত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে জাতীয়তাবাদ ও অখণ্ডতার আবেগ উসকে দেওয়া, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জনজাতি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই এখন গেরুয়া শিবিরের বড় চ্যালেঞ্জ। ছাব্বিশের ভোটের আগে উত্তরবঙ্গ যে রাজনৈতিক মহাযুদ্ধের এপিসেন্টার হতে চলেছে, মোদী বনাম তৃণমূলের এই তরজাই তার প্রমাণ।