পারস্য উপসাগর ছাড়ল বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরী! যুদ্ধের কি তবে ইতি?
ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল ঘটল! পারস্য উপসাগর থেকে আচমকাই পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নিল মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব তথা বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলা অভিযান শেষে তড়িঘড়ি এই রণতরী ইরানের সীমান্তে মোতায়েন করেছিল পেন্টাগন। তাই, বর্তমান উত্তেজনার আবহ সত্ত্বেও এই রণতরীর প্রস্থান ঘিরে দানা বাঁধছে একাধিক জল্পনা। তবে কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাইছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন?[TECHTARANGA-POST:8678]এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একপ্রকার যুদ্ধবিরতি চলছে। প্রথম দফার সেই মেয়াদ শুক্রবারই শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছেন, গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে দু’দেশের মধ্যে কোনও সরাসরি গোলাগুলি বিনিময় হয়নি। নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কংগ্রেসের সবুজ সঙ্কেত এখনও পাননি ট্রাম্প। এই আইনি জটিলতা এবং রণতরীর প্রস্থান - দুইয়ে মিলে যুদ্ধ শেষের জল্পনা উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।[TECHTARANGA-POST:8656]এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরান তাতে রাজি হয়নি। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনও আলোচনা চলবে না। ট্রাম্প ক্রমাগত হুমকি দিলেও পরিস্থিতি আপাতত থমকে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর দুই পাশ মার্কিন বাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখলেও সরাসরি যুদ্ধের দিকে পা বাড়াতে চাইছে না কোনও পক্ষই।[TECHTARANGA-POST:8573]অন্যদিকে, যুদ্ধ শেষের জল্পনার মাঝে উঠে আসছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ১০ মাস টানা সমুদ্রে থাকার ফলে 'জেরাল্ড ফোর্ড'-এ বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। গত ১২ মার্চ এই রণতরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দু'জন সেনা আহত হন এবং এর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকী, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, রণতরীর শৌচাগার নিয়েও বড়সড় বিভ্রাট তৈরি হয়েছিল। যান্ত্রিক মেরামতির জন্যই সম্ভবত রণতরীটিকে গ্রিসের বন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8616]জেরাল্ড ফোর্ড চলে গেলেও পারস্য উপসাগরে আমেরিকার দাপট কমছে না। আব্রাহাম লিঙ্কন এবং জর্জ এইচডব্লিউ বুশ-সহ এখনও প্রায় ২০টি মার্কিন নৌবহর ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী বিদায় নিলেও ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের বরফ আদৌ গলবে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।