ভোট না দিলেই কি কাটা যাবে নাম? আতঙ্কে হাজার-হাজার টাকার ভাড়া গুনে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ীরা!
কলকাতা: হাতে সময় আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। আর, এই হাইভোল্টেজ ভোটের আগে সুদূর কেরল থেকে দলে দলে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। একুশ বছর পর রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এবারের নির্বাচন কার্যত তাঁদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে! ভোটারতালিকায় নাম থাকলেও মনে কাজ করছে এক অদ্ভুত আতঙ্ক - ‘ভোট না দিলে কি তবে নাম বাদ যাবে তালিকা থেকে?’[TECHTARANGA-POST:8240]এই ভয়ের কারণেই ট্রেনের টিকিট না পেয়ে শেষমেশ আকাশছোঁয়া ভাড়া গুনে বেসরকারি বাসে চেপেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন শ্রমিকরা। তিরুঅনন্তপুরম বা এর্নাকুলাম থেকে বাংলাগামী শালিমার সুপার ফাস্ট, ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস বা অরোনাই এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলিতে সত্যিই যেন তিল ধারণের জায়গা নেই! ফলে এর্নাকুলাম জেলার পেরুম্বাভুর, কোথামঙ্গলম এবং মুভাট্টুপুঝা এলাকা থেকে শয়ে-শয়ে বাস এখন বাংলার পথে![TECHTARANGA-POST:8236]বিলাসবহুল যাতায়াত নয়, স্রেফ ভোট দেওয়ার টানে এই শ্রমিকদের গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা! নন-এসি বাসে ৪ হাজার, এসি বাসে ৫ হাজার এবং স্লিপার বাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরছেন মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও শিলিগুড়ির শ্রমিকরা। বাসের এক অপারেটর জানিয়েছেন, শ্রমিকদের প্রবল অনুরোধে এবার ১০০-র বেশি বাস নামানো হয়েছে। তবে, সীমানা পার হতে, ওড়িশা ও বাংলা সীমানায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত 'ঘুষ' দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন বাস মালিকরা![TECHTARANGA-POST:8230]ভোট দেওয়ার শেষে আবার এই বাসে করেই কর্মস্থলে ফিরে যাবেন শ্রমিকরা। এর জন্য বাসের চালকদের বাংলায় ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে মানুষের এই সচেতনতা কি এবার বাংলায় রেকর্ড ভোটদানের নজির গড়বে? উত্তর মিলবে আগামী বৃহস্পতিবারই।