Hidden Stories (বাংলা)

পাহাড়ের রানির এ কী দশা! তীব্র জলকষ্ট আর মরণ জ্যামে ফেঁসে কাঁদছেন পর্যটকরা, পরিস্থিতি সামলাতে নামল প্রশাসন

দার্জিলিং: গ্রীষ্মের তীব্র দহনজ্বালা থেকে একটু রেহাই পেতে সমতলের মানুষ যখন দলে দলে ভিড় জমিয়েছেন পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ে, ঠিক তখনই সেখানে তৈরি হল এক চরম ও মারাত্মক পরিস্থিতি। শৈলরানির মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পর্যটকদের এখন মাথা কুটে মরতে হচ্ছে তীব্র পানীয় জলের সংকট এবং মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ভয়াবহ যানজটের কারণে।[TECHTARANGA-POST:9538] পাহাড়ের সরু রাস্তাগুলোতে যানবাহনের অন্তহীন সারি আর জলের কলের সামনে স্থানীয় ও পর্যটকদের দীর্ঘ অপেক্ষা— সব মিলিয়ে ভরা পর্যটন মরশুমের এই মহাসংকটে পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এবার নজিরবিহীনভাবে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হয়েছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসনকে।[TECHTARANGA-POST:9527]বর্তমানে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে পাহাড়ে পৌঁছতে পর্যটকদের প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে যে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রুট এবং জোড়বাংলো থেকে দার্জিলিংগামী মাত্র ৮ কিলোমিটারের পথটুকু পার হতেই লেগে যাচ্ছে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময়। কলকাতার বাসিন্দা এক ভুক্তভোগী পর্যটক সুপর্ণা রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, শহরের ভেতর যে মাত্রায় যানজট তৈরি হচ্ছে, তাতে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়াই শ্রেয়।[TECHTARANGA-POST:9470] বিশেষ করে টয় ট্রেন যখন রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলে, তখন গোটা শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ওপর আবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিকিম সফরের কারণে শিলিগুড়িতে জারি থাকা ট্রাফিক বিধিনিষেধ এই জ্যামের আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে। যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং রুখতে দার্জিলিংয়ের মহকুমা শাসক বনমালী রায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাস্তায় বেআইনিভাবে গাড়ি রাখলে এবার থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা ও মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিশেষ যৌথ টহলদারি দলও গঠন করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9477]ট্রাফিক জ্যামের মতোই পাহাড়বাসীর জন্য আরেকটি বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে পানীয় জলের তীব্র হাহাকার। গরমের মরশুমের বিপুল ভিড়ে জলের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া, কিন্তু জোগান অত্যন্ত সামান্য। স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় রাইয়ের মতে, পর্যটন মরশুমে পাইপলাইনের জল সব বড় বড় হোটেলে চলে যাওয়ায় স্থানীয়রা ঠিকমতো জলই পাচ্ছেন না। অন্যদিকে জল সংকটের কারণে পর্যটকদের সঠিক পরিষেবা দিতে না পেরে হোটেল মালিকদের সঙ্গে পুণ্যার্থীদের নিত্যদিন বচসা বাঁধছে। [TECHTARANGA-POST:9448]তবে এই জোড়া সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় বসে নেই। জিটিএ (GTA) চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান জানিয়েছেন, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জলের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত জলের ট্যাঙ্কার নামানো হয়েছে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় ১ জুন থেকে টাইগার হিলের ভেহিক্যাল টোকেন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার যে গুজব রটেছিল, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের সুবিধার্থে ভোরে যাত্রা করা এবং পাহাড়ে জলের অপচয় না করার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

পাহাড়ের রানির এ কী দশা! তীব্র জলকষ্ট আর মরণ জ্যামে ফেঁসে কাঁদছেন পর্যটকরা, পরিস্থিতি সামলাতে নামল প্রশাসন

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার