দল সরাতেই কেন্দ্রের বড় ‘পুরস্কার’? এবার ‘Y Plus’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তায় তৃণমূলের কাকলি!
কলকাতা: বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় ওঠার পর যেখানে বিদায়ী শাসকদলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের রাজ্য নিরাপত্তা এক ধাক্কায় ছাঁটাই করা হয়েছে, ঠিক তখনই ঘটল এক উলটপুরাণ! সবাইকে চমকে দিয়ে তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা এক লাফে বাড়িয়ে দিল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।[TECHTARANGA-POST:9290]এবার থেকে ‘Y Plus’ ক্যাটেগরির হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাবেন তিনি। আজ, বুধবার সকাল থেকেই মধ্যমগ্রামে কাকলিদেবীর বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের। এমনকি দলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে বৈঠক করতে যাওয়ার সময়ও তাঁর গাড়ির চারধারে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুলেটপ্রুফ ঘেরাটোপ। যেখানে দলের বাকি নেতাদের ক্ষমতা ও কনভয় কমছে, সেখানে হঠাৎ কেন তৃণমূলের এই প্রবীণ সাংসদের ওপর কেন্দ্রের এই বিশেষ ‘স্নেহাশিস’, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।[TECHTARANGA-POST:9280]রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নজিরবিহীন ঘটনার পিছনে রয়েছে খোদ তৃণমূলের অন্দরের তীব্র কাজিয়া ও মান-অভিমান। সম্প্রতি লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আচমকা সরিয়ে দিয়ে আবারও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ৯ মাস আগে কল্যাণের ইস্তফার পর যে পদ কাকলিকে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে এভাবে ডানা ছাঁটার পরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:9265]সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে কাকলিদেবী লিখেছিলেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।” তার আগে তাঁর ছেলেও একের পর এক দলবিরোধী পোস্ট করে জল্পনা বাড়িয়েছিলেন। পদ খোয়ানোর সেই চরম অসন্তোষের আবহেই এবার কেন্দ্রের এই মেগা নিরাপত্তা বলয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ৪ দশকের আনুগত্যের পর তৃণমূলের দেওয়া ‘পুরস্কার’-এর পাল্টা হিসেবেই কি বিজেপি চালিত কেন্দ্র এই বড় পদক্ষেপ করল? নাকি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদ্মশিবিরে পা বাড়ানোর সলতে পাকানো শুরু হয়ে গেল? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।