কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো মিটতেই এবার রাজ্যজুড়ে কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর কালীপুজো মানেই যেসকল জায়গায় ভক্তদের ঢল নামে, তার মধ্যে অন্যতম নৈহাটির বড় মা। দূরদুরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ মায়ের দর্শন করতে আসেন। তবে এবার পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। সেই প্রাণহানির ঘটনার পর নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না তারা।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনই নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড় মায়ের ১০৩তম বর্ষের খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণ দফতরের মন্ত্রী অর্জুন সিং। মন্দির চত্বর ঘুরে তিনি বলেন, বড় মায়ের মন্দিরে আলাদা করে থাকবে না ভিআইপি ব্যবস্থা। মায়ের কাছে প্রত্যেক ভক্তই সমান। চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তাই আগে থেকেই ব্যারিকেড করে দেওয়া হবে। এছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং আয়োজকদের কর্মীরা।
রীতি মেনে লক্ষ্মীপুজোর দিনই নৈহাটির অরবিন্দ রোডে নির্দিষ্ট জায়গায় কাঠামো পুজোর মাধ্যমে প্রতিমা নির্মাণের সূচনা হয়। খুঁটিপুজো উপলক্ষে বহু ভক্তের সমাগমও হয়। উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতি আজও মানুষের মনে তাজা। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আসন্ন কালীপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
Leave a comment