নয়াদিল্লি: দিওয়ালির ঠিক প্রাক্কালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি। আনন্দের আলোর মাঝেই হঠাৎ নেমে এল ঘোর অন্ধকার। পিনপতন অন্ধকারে তখন কেবলই আগুনের তীব্র শিখা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী। শুক্রবার ভোররাত্রে দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ও বিখ্যাত বাণিজ্যিক কেন্দ্র করোল বাগের গফ্ফর বাজার এলাকার একটি চারতলা ভবনে হঠাৎই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। চার তলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সেই আগুনের করাল গ্রাসে মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে একাধিক মোবাইল অ্যাক্সেসরিজের দোকান। বিশাল এই অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ২২ থেকে ২৫টি ইঞ্জিন। কয়েক ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টায় ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে যখন গোটা শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময় রাত আনুমানিক ১টা ২৮ মিনিট নাগাদ করোল বাগের চেইন ওয়ালি গলির এক বহুতলে আগুন লাগার খবর আসে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন পাওয়া মাত্রই করোল বাগ থানার এসএইচও এবং রাতের ডিউটিতে থাকা টহলদার পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ‘পুরি প্লাজা’ নামে পরিচিত ওই চারতলা বাণিজ্যিক ভবনে আগুন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ভবনটির ১৩/২১ নম্বর দোকান থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বহুতলটির নিচতলায় অবস্থিত একটি মোবাইল খুচরো যন্ত্রাংশের দোকানে প্রথম আগুন ধরেছিল। যেখানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ব্যাটারি জমা করা ছিল। সেখান থেকেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে দ্রুত বহুতলটির ওপরের চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বুঝে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ২০-২৫টি ইঞ্জিনকে নামানো হয়। নিরাপত্তার খাতিরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও পিসিআর ভ্যানও মোতায়েন রাখা হয়।
দমকল কর্মীদের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রাণপণ লড়াইয়ের পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সৌভাগ্যবশত, এই মর্মান্তিক ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর মেলেনি। তবে উৎসবে ব্যবসার মুখে মোবাইল অ্যাক্সেসরিজের একাধিক দোকান পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত চার্জ হওয়া বা ওভারহিটিংয়ের কারণে মোবাইলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকেই হয়তো এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে আসল কারণ নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও ইলেকট্রিক্যাল ইন্সপেক্টরের থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। দিওয়ালির কেনাকাটার মরসুমে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সমগ্র গফ্ফর বাজার এলাকায় তীব্র শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment