শাহের ভোকাল টনিকে ফের চাঙ্গা বঙ্গ বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিন পর দলের রাজ্য কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই তিনি ফের সক্রিয় রাজনীতিতে নামছেন। মাঠে নামা থেকে শুরু করে ভোটে লড়াই—দল যে দায়িত্বই দেবে, তা নিতে তিনি প্রস্তুত, এমনটাই জানালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
গত কয়েক মাস ধরেই কার্যত দলের কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিঘায় সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হোক বা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও বৈঠক—কোনও ক্ষেত্রেই তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি গত ২৫ ডিসেম্বর অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে রাজ্য বিজেপির আদি নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনেও ডাক পাননি দিলীপ। এই পরিস্থিতিতে বুধবার অমিত শাহের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং তার পরদিন দলের দফতরে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রায় আট মাস পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে যান দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অমিত শাহ বলেছেন, পুরোপুরি কাজে লাগতে হবে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দলের মধ্যে একাধিক নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জানা ছিল না। সেগুলো সম্পর্কে এদিন তিনি অবহিত হয়েছেন।
তবে দিলীপ ঘোষের সক্রিয়তা শুধুমাত্র দফতরের বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শীঘ্রই জনসভাতেও তাঁকে দেখা যাবে বলে জানালেন তিনি। দিলীপের কথায়, জানুয়ারিতেই দুর্গাপুরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সত্যিই কি তিনি মাঠ জুড়ে খেলবেন? উত্তরে দিলীপ স্পষ্ট করেন, দল যেভাবে তাঁকে কাজে লাগাবে, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন। ভোটে লড়তে বলা হলে তাতেও তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেই জানান তিনি।
দলের অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে কৌশলী জবাব দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে নতুন নেতাদের আনাগোনা বাড়ে, এটাই স্বাভাবিক। নতুন কেউ এলে তাঁদের অনেক কিছু নতুন করে বোঝাতে হয়। নব্য নেতারা তাঁকে বুঝতে পারেননি কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, “দল বুঝলেই হল। আর কে বুঝবে, আমার জানার দরকার নেই। কাউকে বোঝানো আমার কাজ নয়।”
গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় দলের কর্মীদের বিক্ষোভ এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। নাম না করেই এই ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহলকে বিঁধেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, “বিজেপির কর্মীরা আমাকে কোনও দিন কালো পতাকা দেখায়নি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকেই দলে এসেছে। এগুলো ওদের কালচার। কখন কাকে দেখাতে হবে, ওরা ভুলে যায়। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছে। ওরাই এগুলো করেছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, এরা দলে থাকবে না চলে যাবে, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে জানান, দল চাইলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ছাব্বিশে বিজেপি কি হারানো জমি ফিরে পাবে—এই প্রশ্নে দিলীপ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের উদাহরণ। তাঁর কথায়, “কতদিনের লড়াইয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছেন। রাজনীতিতে লড়াই করতেই হয়। লোক আসবে, যাবে। কিন্তু আন্দোলন থেকে সরলে চলবে না।”
হিডেন স্টোরিজ নিউজ/Rai/SHK

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন