ঢাকা ও দিল্লি: বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের এক আকস্মিক ও নজিরবিহীন দিল্লি সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, 'কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘন করে' ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আবেদন করায় তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার (বিদেশ মন্ত্রক)।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সারা কুক গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে করে নয়াদিল্লি পৌঁছান। তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের সরকারি অবস্থান এবং কর্মকর্তাদের ভাবনা বোঝা। তবে, সফরের আগেই তিনি যথাযথ কূটনৈতিক মাধ্যম বা নিয়ম না মেনেই সরাসরি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের সময় চেয়েছিলেন! ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একে 'ডিপ্লোম্যাটিক প্রোটোকল' বা কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য করে এবং তাঁর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে অস্বীকার করে বলে শোনা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সারা কুকের আগে ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনাও একইভাবে দিল্লি সফর করে বিদেশ সচিব সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। যা ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করেছিল।
তবে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে না পারলেও, দিল্লিতে থাকাকালীন সারা কুক ভারতের দুজন প্রাক্তন কূটনীতিক, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যদিও, বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রিত আরও একজন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক সেই বৈঠকে যোগ দেননি বলেও শোনা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সারা কুক বর্তমান বাংলাদেশে "আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো" বলে দাবি করেন। তবে, বৈঠকে উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিরা এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে চলা নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে কুকের দাবি চ্যালেঞ্জ করেন।
আরও জানা গিয়েছে, গত ১৯ জানুয়ারি দিল্লি যাওয়ার ঠিক আগেই সারা কুক ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারার দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন ও ব্রিটিশ কূটনীতিকদের এক ধরনের "সফট কর্নার" কাজ করছে!
বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে পশ্চিমা শক্তিগুলির, বিশেষ করে আমেরিকার পরোক্ষ ও ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থার নীরব ভূমিকা ছিল। বর্তমানে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন আশীর্বাদধন্য হিসাবে পরিচিত হলেও, দেশটিতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সারা কুক ও প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস "অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ নির্বাচনের" জন্য সোচ্চার হলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হতে চলা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া নিয়ে তাঁরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ভারত বরাবরই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। যা বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সারা কুকের দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে। তাঁর এই সফর ও ভারতের অনীহা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
@ NENEWS

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন