Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়ার জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়ার জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া
সুকুমার বড়ুয়া (সংগৃহীত ছবি)

বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ও ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। তাঁর প্রয়াণে বাংলা শিশুসাহিত্য ও কবিতার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।

সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্য বিনাজুরি গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মা কিরণবালা বড়ুয়া। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তিন কন্যা ও এক পুত্রের জনক।

শৈশব থেকেই জীবনের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়েছিল তাঁর। বর্ণজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন মামাবাড়ির স্কুলে। পরে বড় দিদির বাড়িতে গিয়ে ডাবুয়া খালের পাশে অবস্থিত ডাবুয়া স্কুলে ভর্তি হন। তবে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরই আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।

অল্প বয়স থেকেই জীবিকার তাগিদে তাঁকে নানা কাজে যুক্ত হতে হয়। বিভিন্ন সময় তিনি মেসে কাজ করেছেন, আবার কখনও ফলমূল, আইসক্রিম, বুট-বাদাম ফেরি করে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তাঁর মনে গড়ে উঠছিল শব্দ আর ছন্দের আলাদা জগৎ।

১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে মাত্র ৬৪ টাকা বেতনে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি নিজেকে নিবেদন করেছিলেন সাহিত্যচর্চায়। সহজ ভাষা, রসিকতা আর শিশুদের কল্পনার জগৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল তাঁর লেখালেখি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’ ও ‘নানা রঙের দিন’।

ছড়ার জগতে তিনি রেখে গেছেন অসাধারণ সব সৃষ্টি। তাঁর ১০১টি ছড়ার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘বুদ্ধ চর্চা বিষয়ক ছড়া’, ‘ঠুস্ঠাস্’, ‘নদীর খেলা’, ‘আরো আছে’, ‘ছড়া সমগ্র’, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে’, ‘কোয়াল খাইয়ে’, ‘ছোটদের হাট’, ‘লেজ আবিষ্কার’ প্রভৃতি।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে আলাওল শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি।

সুকুমার বড়ুয়ার প্রয়াণে একজন মানুষ চলে গেলেও, তাঁর ছড়া ও কবিতায় তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন বাংলা সাহিত্যের পাঠকের হৃদয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়ার জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ও ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। তাঁর প্রয়াণে বাংলা শিশুসাহিত্য ও কবিতার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্য বিনাজুরি গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মা কিরণবালা বড়ুয়া। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তিন কন্যা ও এক পুত্রের জনক।শৈশব থেকেই জীবনের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়েছিল তাঁর। বর্ণজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন মামাবাড়ির স্কুলে। পরে বড় দিদির বাড়িতে গিয়ে ডাবুয়া খালের পাশে অবস্থিত ডাবুয়া স্কুলে ভর্তি হন। তবে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরই আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।অল্প বয়স থেকেই জীবিকার তাগিদে তাঁকে নানা কাজে যুক্ত হতে হয়। বিভিন্ন সময় তিনি মেসে কাজ করেছেন, আবার কখনও ফলমূল, আইসক্রিম, বুট-বাদাম ফেরি করে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তাঁর মনে গড়ে উঠছিল শব্দ আর ছন্দের আলাদা জগৎ।১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে মাত্র ৬৪ টাকা বেতনে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি নিজেকে নিবেদন করেছিলেন সাহিত্যচর্চায়। সহজ ভাষা, রসিকতা আর শিশুদের কল্পনার জগৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল তাঁর লেখালেখি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’ ও ‘নানা রঙের দিন’।ছড়ার জগতে তিনি রেখে গেছেন অসাধারণ সব সৃষ্টি। তাঁর ১০১টি ছড়ার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘বুদ্ধ চর্চা বিষয়ক ছড়া’, ‘ঠুস্ঠাস্’, ‘নদীর খেলা’, ‘আরো আছে’, ‘ছড়া সমগ্র’, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে’, ‘কোয়াল খাইয়ে’, ‘ছোটদের হাট’, ‘লেজ আবিষ্কার’ প্রভৃতি।সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে আলাওল শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি।সুকুমার বড়ুয়ার প্রয়াণে একজন মানুষ চলে গেলেও, তাঁর ছড়া ও কবিতায় তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন বাংলা সাহিত্যের পাঠকের হৃদয়ে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার