Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানাচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা আছে।

আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টের আগে সাধারণত আয়োজক সংস্থা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি পরবর্তীতে টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশ না নেয়, তবে আইসিসিকে এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়।

সাধারণত এক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা-কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে ধরা হয়। অতীতেও এমন নজির আছে। যেমন ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই কারণ দেখানো হয়েছিল, যা আইসিসি মেনেও নিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত এর আরেকটি উদাহরণ।


এবার বিসিবিও একই পথ অনুসরণ করতে চায়। ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগ হলো 'নিরাপত্তা'। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে—ভারতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়; বিসিবির পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তাই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে যেতে অনিচ্ছুক এবং তাদের ম্যাচগুলো যেন অন্য দেশে আয়োজন করা হয় এমনটাই চাচ্ছে বোর্ড।

প্রসঙ্গত, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কারণে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল ভারতে গেলেও বা কতটা নিরাপদ থাকবে? খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ছাড়াও সাংবাদিক ও দর্শক মিলিয়ে একটি বড় অংশ ভারতেই থাকবে। একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাই যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে এত মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?—এমন প্রশ্ন তুলছে বিসিবি।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও সোমবার বলেছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এতেও বিসিবি রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম।


পুরো পরিস্থিতি বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ এখন তৈরি করেছে। কারণ আয়োজক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব। আইসিসির বর্তমান প্রধান ভারতীয় হওয়ায় বিষয়টি উপেক্ষা করাও সহজ নয়। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর প্রস্তাবে আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করাটাও কঠিন। সূচি, সম্প্রচার ও প্রতিপক্ষ দলগুলোর সম্মতির মতো নানা জটিলতাও রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ, এগুলো পুনর্বিন্যাস করাও সহজ ব্যাপার নয়।


যদি আইসিসি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বাংলাদেশও খেলতে না যায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পাবে। এমনকি কঠোর শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। কারণ বিষয়টি সবার কাছেই যুক্তিযুক্ত।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানাচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা আছে।আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টের আগে সাধারণত আয়োজক সংস্থা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি পরবর্তীতে টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশ না নেয়, তবে আইসিসিকে এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়।সাধারণত এক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা-কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে ধরা হয়। অতীতেও এমন নজির আছে। যেমন ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই কারণ দেখানো হয়েছিল, যা আইসিসি মেনেও নিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত এর আরেকটি উদাহরণ।এবার বিসিবিও একই পথ অনুসরণ করতে চায়। ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগ হলো 'নিরাপত্তা'। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে—ভারতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়; বিসিবির পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তাই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে যেতে অনিচ্ছুক এবং তাদের ম্যাচগুলো যেন অন্য দেশে আয়োজন করা হয় এমনটাই চাচ্ছে বোর্ড।প্রসঙ্গত, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কারণে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল ভারতে গেলেও বা কতটা নিরাপদ থাকবে? খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ছাড়াও সাংবাদিক ও দর্শক মিলিয়ে একটি বড় অংশ ভারতেই থাকবে। একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাই যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে এত মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?—এমন প্রশ্ন তুলছে বিসিবি।বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও সোমবার বলেছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এতেও বিসিবি রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম।পুরো পরিস্থিতি বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ এখন তৈরি করেছে। কারণ আয়োজক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব। আইসিসির বর্তমান প্রধান ভারতীয় হওয়ায় বিষয়টি উপেক্ষা করাও সহজ নয়। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর প্রস্তাবে আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করাটাও কঠিন। সূচি, সম্প্রচার ও প্রতিপক্ষ দলগুলোর সম্মতির মতো নানা জটিলতাও রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ, এগুলো পুনর্বিন্যাস করাও সহজ ব্যাপার নয়।যদি আইসিসি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বাংলাদেশও খেলতে না যায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পাবে। এমনকি কঠোর শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। কারণ বিষয়টি সবার কাছেই যুক্তিযুক্ত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার