নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নত দেশগুলির অর্থনীতিতে মন্দার মেঘ ঘনালেও, ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম ‘স্থিতিশীল অর্থনীতি’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের যে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করেছেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি কেবল দ্রুতগতিতে এগোচ্ছেই না, বরং এক মজবুত কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৪% ছুঁতে চলেছে। এটি কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের কাছেই একটি নজির। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৬.৮% থেকে ৭.২%। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সুশৃঙ্খল আর্থিক নীতি এবং পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের ফলেই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সমীক্ষার প্রধান আকর্ষণ ও সরকারের সাফল্যসমূহ:
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: যেখানে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলি বিভিন্ন পণ্য়ের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ভারতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির গড় হার (এপ্রিল-ডিসেম্বর ২০২৫) কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৭%। এটি সরকারের দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা ও জোগান বৃদ্ধির ফল।
রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস: আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। ২০২৫ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৪.৮%, এবং ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৪.৪%।
পরিকাঠামোয় বিপ্লব: গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure) চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইওয়ে করিডোর থেকে রেলের ১০০% বৈদ্যুতিকরণ— মোদী সরকারের ‘গতিশক্তি’ প্রকল্প দেশকে এক আধুনিক রূপ দিচ্ছে।
রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার: ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত), যা দিয়ে টানা ১১ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। এটি ভারতের শক্তিশালী বহিঃবাণিজ্য ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক।
‘স্বদেশী’ ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (সিইএ) ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ এই সমীক্ষায় ‘কৌশলগত স্বদেশী’ (Strategic Swadeshi) নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যখন বিশ্ব বাণিজ্য আর নিরপেক্ষ থাকছে না, তখন ভারতকে উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সেমিকন্ডাক্টর মিশনে আরও শক্তিশালী হতে হবে। ১,৬০,০০০ কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এবং পিএলআই স্কিমের মাধ্যমে ১২ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনারই ফসল।
কেন এগিয়ে ভারত?
এই সমীক্ষা বিশ্লেষণ করলে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়। যথা -
১. অভ্যন্তরীণ চাহিদা: ভারতের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের ভোগব্যয় অর্থনীতিকে ভিতর থেকে শক্তি জোগাচ্ছে।
২. সংস্কারের সুফল: জিএসটি সংশোধন, ব্যাঙ্কিং সেক্টরে এনপিএ কমিয়ে ২.২%-এ আনা এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (ডিপিআই) ব্যাপক প্রসার ভারতকে বিশ্বের দরবারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।
৩. আর্থিক শৃঙ্খলা: পপুলিজম বা সস্তা জনমোহিনী রাজনীতির পথে না হেঁটে সরকার স্থায়ী উন্নয়নে লগ্নি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনছে।
২০২৬-এর অর্থনৈতিক সমীক্ষা কেবল পরিসংখ্যানের খতিয়ান নয়, এটি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার এক বলিষ্ঠ ব্লুপ্রিন্ট। মোদী সরকারের এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ আর্থিক মডেল প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক নেতৃত্ব থাকলে বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তাকেও সুযোগে রূপান্তরিত করা সম্ভব। রবিবারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই উন্নতির ধারা আরও ত্বরান্বিত হবে, এমনটাই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন