নয়াদিল্লি: এক সময় ভারতের শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল অপুষ্টি। কিন্তু, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে দ্রুত। ‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশন’-এর সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল অ্যাটলাস’ রিপোর্ট এক হাড়হিম করা তথ্য পেশ করেছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ১২ কোটি শিশু এবং কিশোর-কিশোরী স্থূলত্ব বা ওবেসিটি-জনিত মারাত্মক বিভিন্ন ক্রনিক রোগের শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই বৃদ্ধির হার দ্রুততর। তথ্য অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ভুগবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে তাদের শারীরিক সুস্থতায়। উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের মতো সমস্যাগুলি, যা আগে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা যেত, তা এখন স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।
গবেষকদের মতে, এর পিছনে প্রধান কারণ হল - পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের অত্যাধিক ব্যবহার শিশুদের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তার উপর মোবাইল গেম এবং অনলাইন ক্লাসের যুগে শিশুদের খেলার মাঠে যাওয়ার অভ্যাস কমেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের প্রায় ৭৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রমটুকুই করে না! এছাড়াও, যথাযথভাবে স্তন্যপান না করানোও শৈশবকালীন ওবেসিটির একটি অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বিএমআই (BMI) ২৫-এর উপরে গেলেই তা চিন্তার বিষয়। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের অন্তত ৪২ লক্ষ শিশু উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রায় ১৯ লক্ষ শিশু হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রার সমস্যায় ভুগতে পারে। হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ বা উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের সমস্যা দেখা দিতে পারে প্রায় ৬ কোটি শিশুর মধ্যে!
এই জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় রুখতে এখনই চিনির উপর অতিরিক্ত কর আরোপ, স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা এবং জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করছে এই গ্লোবাল অ্যাটলাস। অন্যথায়, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত এক বিশাল স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হতে পারে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন