Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট-২’, অপরাধ দমনের আড়ালে কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট-২’, অপরাধ দমনের আড়ালে কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

ঢাকা: বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে এবার দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দফতরে একটি বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই অভিযানের কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যত খালেদা জিয়ার আমলের বিতর্কিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এরই দ্বিতীয় সংস্করণ। তবে, সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া শাসকদল আওয়ামী লিগের আশঙ্কা, দুষ্কৃতী দমনের নাম করে আসলে তাদেরই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে এই বিশেষ অভিযান প্রথম পর্যায় ঢাকা থেকে শুরু হবে এবং পরে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। খুনি, চাঁদাবাজ, ধর্ষক এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের কোনওভাবেই রেয়াত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। গত বছরের অগস্টে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করাও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। যদিও ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির দাবি করা হয়েছে, তবে তা যে যথেষ্ট নয়, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।


দীর্ঘদিন পর যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লিগের দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরায় খুলতে শুরু করেছে এবং ৭ মার্চ ও ১৭ মার্চের মতো কর্মসূচি পালনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই অভিযানের ঘোষণা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব মনে করছে, ২০০১-০৬ সালের মেয়াদে ঠিক যেভাবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর নামে তাদের নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হয়েছিল, এবারও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তাদের অভিযোগ, অপরাধ দমনের দোহাই দিয়ে আসলে রাজপথে নামার আগেই তাদের বাধা দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে প্রশাসন।


অভিযান নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ হল, বাংলাদেশের কারাগারগুলির শোচনীয় দশা। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর জেরে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার আওয়ামী লিগ সমর্থক কারাবন্দি। অনেক কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দি থাকায় নতুন করে ধৃতদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অপরাধীদের দমনে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান সত্যিই অপরাধ নির্মূল করে নাকি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট-২’, অপরাধ দমনের আড়ালে কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
ঢাকা: বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে এবার দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দফতরে একটি বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই অভিযানের কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যত খালেদা জিয়ার আমলের বিতর্কিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এরই দ্বিতীয় সংস্করণ। তবে, সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া শাসকদল আওয়ামী লিগের আশঙ্কা, দুষ্কৃতী দমনের নাম করে আসলে তাদেরই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে এই বিশেষ অভিযান প্রথম পর্যায় ঢাকা থেকে শুরু হবে এবং পরে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। খুনি, চাঁদাবাজ, ধর্ষক এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের কোনওভাবেই রেয়াত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। গত বছরের অগস্টে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করাও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। যদিও ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির দাবি করা হয়েছে, তবে তা যে যথেষ্ট নয়, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।দীর্ঘদিন পর যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লিগের দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরায় খুলতে শুরু করেছে এবং ৭ মার্চ ও ১৭ মার্চের মতো কর্মসূচি পালনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই অভিযানের ঘোষণা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব মনে করছে, ২০০১-০৬ সালের মেয়াদে ঠিক যেভাবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর নামে তাদের নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হয়েছিল, এবারও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তাদের অভিযোগ, অপরাধ দমনের দোহাই দিয়ে আসলে রাজপথে নামার আগেই তাদের বাধা দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে প্রশাসন।অভিযান নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ হল, বাংলাদেশের কারাগারগুলির শোচনীয় দশা। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর জেরে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার আওয়ামী লিগ সমর্থক কারাবন্দি। অনেক কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দি থাকায় নতুন করে ধৃতদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অপরাধীদের দমনে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান সত্যিই অপরাধ নির্মূল করে নাকি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার