Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত

আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত

ওয়ামী লীগের ওপর ঝড়-ঝাপটা এসেছে—তা নতুন নয়। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ওপর যে সুনামি নেমে আসে, তা থেকে এখনো পরিত্রাণ পাওয়া যায়নি। এখনো আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী প্রাণের ভয়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন বা হিজরত করেছেন। প্রাণের ভয়ে হিজরত করা মোটেও লজ্জার নয়। প্রায় ১৪০০ বছর আগে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স.) জীবন বাঁচাতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং দীর্ঘ দশ বছর পর মক্কা বিজয় করে স্বদেশে ফিরে আসেন। মক্কাবাসী তাঁকে উল্লাসধ্বনিতে স্বাগত জানায়।

সুতরাং দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। তবে কখন, কবে—তা বলা যায় না। ফিরে আসার সময় নির্ভর করবে বর্তমান সরকারের শাসনের ওপর, তাদের অপকর্ম ও অব্যবস্থাপনার ওপর। তাছাড়া বিশেষভাবে দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের কর্মতৎপরতার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে বিদেশি সরকারসমূহ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আওয়ামী লীগকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে খুব একটা সাহায্য করবে না। দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে, ততই তাদের প্রত্যাবর্তন সহজ ও ত্বরান্বিত হবে।

১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন অনেক বেশি সম্ভাবনাময়

তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, ১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে এখন এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না। দেশের জনগণই নিজেদের তাগিদে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ডেকে আনবে। তবে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আত্মশুদ্ধি করতে হবে। দলের মধ্যে সংস্কার যেমন প্রয়োজন, তেমনি সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের যথার্থ কারণ নির্ণয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যে সমস্ত অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে, তার যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যে অভিযোগগুলো বানোয়াট, সেগুলো কেন বানোয়াট—তা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করতে হবে। আর যে অভিযোগগুলোর সত্যতা রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে স্বীকার করে নিয়ে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমি মনে করি দেশের প্রত্যেকটি বড় ঘটনা ও বিষয় সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। যেমন—২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের বানোয়াট অভিযোগ, বিগত নির্বাচনের অভিযোগ, গুম-খুন-হত্যা, নির্যাতন, ড. ইউনূসের তথাকথিত ‘আয়নাঘর’, জেহাদি অপতৎপরতা এবং সন্ত্রাসী মব-কালচার ইত্যাদি বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ জনগণের দল

আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দল, আর জনগণই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, জনগণের প্রত্যাশা, তাদের সার্বিক কল্যাণ এবং দেশের মঙ্গল সাধনের অন্য নাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী চেতনা, হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।

সুতরাং যতদিন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা থাকবে, যতদিন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকবে, যতদিন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না—ততদিন মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে। আওয়ামী লীগের মৃত্যু নেই। মানুষের চাওয়া-পাওয়ার অধিকার ও অপ্রাপ্তি যত বাড়বে, আওয়ামী লীগ ততই সোচ্চার হয়ে উঠবে।

পূর্ব বাংলার হাজার বছরের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। এরপর দেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরপর চারবার সরকার গঠন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করেছে।

২০২৪ সালের সুনামি: ঘরে ডাকাত ঢোকার মতো

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের ওপর সুনামির মতো আঘাত এসেছে। বাড়িতে ডাকাত ঢুকলে যেমন লুটপাট হয়, কখনো বাড়ির লোকজন বা দারোয়ানকে হত্যা করা হয়—বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে।

ছোটবেলায় বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য মা-দাদিরা “বর্গীর ভয় দেখিয়ে” ছড়া গাইতেন। বঙ্গভূমিতে সময়ে সময়ে বর্গীর আক্রমণ হতো—তারা সাজানো সংসার তছনছ করে লুটপাট করত। গোলার ধান, পুকুরের মাছ, সংসারের ধনসম্পদ লুট করে পালিয়ে যেত। ২০২৪ সালের তথাকথিত আন্দোলনেও তেমনটাই হয়েছে।

তবে ১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আরও বেশি।

১৯৭৫ সালে নেতৃত্বশূন্য, এখন ঐক্যবদ্ধ

১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছিল। দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সুখের বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং এই দলের অবিসংবাদিত নেতা শেখ হাসিনা।

মহান আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো জীবিত আছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁকে কোনো বিশেষ কারণে জীবিত রেখেছেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। পঁচাত্তরে ২১ বছর লেগেছিল—এবার এতদিন লাগবে না বলেই আমার বিশ্বাস।

প্রবাসীদের ভূমিকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাঙালিরা—বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালিরা—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের উদ্যোগে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।

তবে ১৯৭৫ সালে এমন অবস্থা ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে—আওয়ামী লীগের সমর্থক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। তারা চাইলে আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

শেখ হাসিনার অর্জন

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের অর্জন অভাবনীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা সেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে নিয়েছেন।

তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন এবং দেশকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে পরিণত করেছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত ও অতি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ “সোনার বাংলা” গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

উপসংহার

আওয়ামী লীগের ইতিহাস, সংগ্রাম ও অর্জন গৌরবময়। তাই এই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে যাত্রাপথ সহজ নয়। মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। তাই প্রয়োজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা।

বর্তমানে সময়ের দাবি—আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হাজার হাজার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

নতুন সরকার যদি এসব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে না, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

লেখক: বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিষয় : Bangladesh Awami League A K Abdul Momen

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
আওয়ামী লীগের ওপর ঝড়-ঝাপটা এসেছে—তা নতুন নয়। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ওপর যে সুনামি নেমে আসে, তা থেকে এখনো পরিত্রাণ পাওয়া যায়নি। এখনো আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী প্রাণের ভয়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন বা হিজরত করেছেন। প্রাণের ভয়ে হিজরত করা মোটেও লজ্জার নয়। প্রায় ১৪০০ বছর আগে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স.) জীবন বাঁচাতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং দীর্ঘ দশ বছর পর মক্কা বিজয় করে স্বদেশে ফিরে আসেন। মক্কাবাসী তাঁকে উল্লাসধ্বনিতে স্বাগত জানায়।সুতরাং দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। তবে কখন, কবে—তা বলা যায় না। ফিরে আসার সময় নির্ভর করবে বর্তমান সরকারের শাসনের ওপর, তাদের অপকর্ম ও অব্যবস্থাপনার ওপর। তাছাড়া বিশেষভাবে দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের কর্মতৎপরতার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে বিদেশি সরকারসমূহ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আওয়ামী লীগকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে খুব একটা সাহায্য করবে না। দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে, ততই তাদের প্রত্যাবর্তন সহজ ও ত্বরান্বিত হবে।১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন অনেক বেশি সম্ভাবনাময়তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, ১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে এখন এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না। দেশের জনগণই নিজেদের তাগিদে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ডেকে আনবে। তবে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আত্মশুদ্ধি করতে হবে। দলের মধ্যে সংস্কার যেমন প্রয়োজন, তেমনি সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের যথার্থ কারণ নির্ণয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।যে সমস্ত অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে, তার যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যে অভিযোগগুলো বানোয়াট, সেগুলো কেন বানোয়াট—তা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করতে হবে। আর যে অভিযোগগুলোর সত্যতা রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে স্বীকার করে নিয়ে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।আমি মনে করি দেশের প্রত্যেকটি বড় ঘটনা ও বিষয় সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। যেমন—২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারের বানোয়াট অভিযোগ, বিগত নির্বাচনের অভিযোগ, গুম-খুন-হত্যা, নির্যাতন, ড. ইউনূসের তথাকথিত ‘আয়নাঘর’, জেহাদি অপতৎপরতা এবং সন্ত্রাসী মব-কালচার ইত্যাদি বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন।আওয়ামী লীগ জনগণের দলআওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দল, আর জনগণই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, জনগণের প্রত্যাশা, তাদের সার্বিক কল্যাণ এবং দেশের মঙ্গল সাধনের অন্য নাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী চেতনা, হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।সুতরাং যতদিন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা থাকবে, যতদিন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকবে, যতদিন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না—ততদিন মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে। আওয়ামী লীগের মৃত্যু নেই। মানুষের চাওয়া-পাওয়ার অধিকার ও অপ্রাপ্তি যত বাড়বে, আওয়ামী লীগ ততই সোচ্চার হয়ে উঠবে।পূর্ব বাংলার হাজার বছরের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। এরপর দেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরপর চারবার সরকার গঠন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করেছে।২০২৪ সালের সুনামি: ঘরে ডাকাত ঢোকার মতো২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের ওপর সুনামির মতো আঘাত এসেছে। বাড়িতে ডাকাত ঢুকলে যেমন লুটপাট হয়, কখনো বাড়ির লোকজন বা দারোয়ানকে হত্যা করা হয়—বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে।ছোটবেলায় বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য মা-দাদিরা “বর্গীর ভয় দেখিয়ে” ছড়া গাইতেন। বঙ্গভূমিতে সময়ে সময়ে বর্গীর আক্রমণ হতো—তারা সাজানো সংসার তছনছ করে লুটপাট করত। গোলার ধান, পুকুরের মাছ, সংসারের ধনসম্পদ লুট করে পালিয়ে যেত। ২০২৪ সালের তথাকথিত আন্দোলনেও তেমনটাই হয়েছে।তবে ১৯৭৫ সালের তুলনায় এখন আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আরও বেশি।১৯৭৫ সালে নেতৃত্বশূন্য, এখন ঐক্যবদ্ধ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছিল। দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সুখের বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং এই দলের অবিসংবাদিত নেতা শেখ হাসিনা।মহান আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো জীবিত আছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁকে কোনো বিশেষ কারণে জীবিত রেখেছেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। পঁচাত্তরে ২১ বছর লেগেছিল—এবার এতদিন লাগবে না বলেই আমার বিশ্বাস।প্রবাসীদের ভূমিকা১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাঙালিরা—বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালিরা—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের উদ্যোগে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।তবে ১৯৭৫ সালে এমন অবস্থা ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে—আওয়ামী লীগের সমর্থক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। তারা চাইলে আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।শেখ হাসিনার অর্জনশেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের অর্জন অভাবনীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা সেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে নিয়েছেন।তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন এবং দেশকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে পরিণত করেছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত ও অতি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ “সোনার বাংলা” গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।উপসংহারআওয়ামী লীগের ইতিহাস, সংগ্রাম ও অর্জন গৌরবময়। তাই এই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে যাত্রাপথ সহজ নয়। মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। তাই প্রয়োজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা।বর্তমানে সময়ের দাবি—আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হাজার হাজার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।নতুন সরকার যদি এসব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে না, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।লেখক: বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার