পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়ল সাধারণ মানুষের যাতায়াতে। লিকুইড পেট্রলিয়াম গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটের কারণে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির একের পর এক রুটে অটোর চাকা ঘোরা প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। শুধু গ্যাসের অভাবই নয়, প্রতি কেজি এলপিজির দাম একধাক্কায় ৫৭.৬৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬২.৬৮ টাকা। ফলে অনেক চালকই সারাদিন গাড়ি নামাতে পারছেন না, যার জেরে একের পর এক রুটে অটো বসে যাচ্ছে।
শহর ও শহরতলির বর্তমান চিত্র:
উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসত-বারাকপুর রুটে ১০০টি অটোর জায়গায় চলছে মাত্র ৩০টি। যশোর রোডের বিভিন্ন রুটে ৪৫০টি অটোর মধ্যে বন্ধ ২৮০টি। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেও ৫০ শতাংশের বেশি অটো অমিল।
ভাড়া বৃদ্ধি: সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক জায়গায় বেআইনিভাবে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠছে। বারাকপুর-ডানলপ রুটে ৪০ টাকার ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা।
বিধাননগর ও কলকাতা: করুণাময়ী থেকে ৪ নম্বর ট্যাঙ্ক রুটে ৭২টির মধ্যে অর্ধেকের বেশি অটো বন্ধ। উল্টোডাঙা ও কাঁকুরগাছির বিভিন্ন রুটেও অটোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
হাওড়া ও হুগলি: চুঁচুড়া, বাঁশবেড়িয়া বা ত্রিবেণী রুটেও একই ছবি। হাওড়ায় গ্যাসের স্টক ফুরিয়ে আসায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাম্পে গ্যাস না মেলায় শহরতলির অনেক জায়গায় ফের বেআইনি ‘কাটা গ্যাস’ (রান্নার সিলিন্ডার) দিয়ে অটো চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বনগাঁর মতো এলাকায় এক শ্রেণীর গ্রাহক তাঁদের অতিরিক্ত রান্নার সিলিন্ডার ১৫০০-১৬০০ টাকায় অটো চালকদের কাছে বিক্রি করছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবহণ দপ্তরের নজরদারির অভাব এবং জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দামে কার্যত দিশেহারা সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে অটো চালকরাও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অটো না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে নিত্যযাত্রীদের মধ্যে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন