ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি (LPG) সংকট কাটাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে গত তিন সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সরবরাহে যে টান পড়েছিল, তা সামাল দিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বরাদ্দ একধাক্কায় আরও ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজির মোট বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ।
যুদ্ধের শুরুতে জোগান বজায় রাখতে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গ্যাস কমিয়ে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসে বেশি জোর দিয়েছিল সরকার। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ১০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। শনিবার কেন্দ্র আরও ২০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যান্টিন ও ফুড প্রসেসিং ইউনিটগুলিতে রান্নার কাজে আর কোনও সমস্যা হবে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাড়ির রান্নার গ্যাসের (Domestic LPG) সরবরাহ বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। ডিস্ট্রিবিউশনে কোনও ঘাটতি নেই এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবাও স্বাভাবিক রয়েছে। সরবরাহের চাপ কমাতে সরকার এখন পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস বা পিএনজি-র (PNG) ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে রিফাইনারিগুলিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় অপরিশোধিত তেল শোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পেট্রোল ও ডিজেলের জোগান ব্যাহত না হয়।
গ্যাস সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি (Panic Booking) তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। নাগরিকদের অযথা দোকানে ভিড় না করে হোম ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ গ্যাসের কালোবাজারি বা ব্ল্যাক মার্কেটিং করতে না পারে।
সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ থেকে আপাতত স্বস্তিতে ভারতীয় হেঁশেল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন