Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর যেন স্বাধীনতার চেতনা অনুপস্থিত

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর যেন স্বাধীনতার চেতনা অনুপস্থিত

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর, ২০২৬ সালের এই স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা শুধু একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নয়, একটি জাতির আত্মা, তার মূল্যবোধ এবং ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাকে নতুন করে যাচাই করছি। এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয় এটি লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ, এবং এক অদম্য সংগ্রামের ফসল। এই স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি, আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক।


কিন্তু আজ সেই গৌরবময় ইতিহাসই যেন নানা প্রশ্নের মুখে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি -কে অবমাননার চেষ্টা, ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা এসব কেবল একজন নেতাকে ছোট করা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়কে আঘাত করার শামিল। তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যা একটি পুরো জাতিকে স্বাধীনতার পথে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেটিকেও আড়াল বা নিষিদ্ধ রাখার অভিযোগ আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে।

আজ আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে স্বাধীনতা দৃশ্যমান, কিন্তু তার চেতনা যেন ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন নানা প্রেক্ষাপটে সামনে আসছে আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন বা আড়াল করার প্রবণতা বাড়ছে। “জয়বাংলা” শ্লোগান, যা ছিল আমাদের মুক্তির শক্তি, সেটিও কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়ছে যা আমাদের জাতীয় চেতনার জন্য অশনি সংকেত।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা। নতুন করে ইতিহাস লেখার নামে যদি সত্যকে আড়াল করা হয়, যদি প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার মতো গল্প ছড়ানো হয়, তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিকড়হীন করে দেবে। একটি জাতি তখনই দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন তার ইতিহাস নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়।


এই অবস্থার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো আমাদের নীরবতা। অন্যায়, অবমাননা, বিকৃতি সবকিছু চোখের সামনে ঘটলেও অনেকেই মুখ খুলতে পারে না। ভয়, অনিশ্চয়তা, কিংবা রাজনৈতিক চাপ মানুষকে সত্য বলা থেকে বিরত রাখে। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসে।

এখানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।  যারা রাষ্ট্রীয়  প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায় স্বাধীনতার ইতিহাস কি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবর্তন করা যাবে? একটি জাতির আত্মপরিচয় কি এভাবে পুনর্লিখন করা সম্ভব?

তাই আজ, এই মহান স্বাধীনতা দিবসে, আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা ইতিহাস বিকৃত হতে দেব না,

আমরা আমাদের মহান নেতাদের সম্মান অটুট রাখব,

আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করব,

এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পাব না।


আমাদের লক্ষ্য হোক এমন একটি বাংলাদেশ,

যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ সম্মান পাবে,

যেখানে ইতিহাস হবে নির্ভুল ও গৌরবময়,

যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে,

এবং প্রতিটি মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।

স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা তখনই রক্ষা পাবে,

যখন আমরা শুধু স্বাধীন দেশে বাস করব না,

বরং স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলব।


কারণ, স্বাধীনতা কোনো একদিনের অর্জন নয় এটি একটি চলমান দায়িত্ব, একটি জীবন্ত চেতনা,

যা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের পবিত্র।

বিষয় : Bangladesh Bangladesh Independence

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর যেন স্বাধীনতার চেতনা অনুপস্থিত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর, ২০২৬ সালের এই স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা শুধু একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নয়, একটি জাতির আত্মা, তার মূল্যবোধ এবং ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাকে নতুন করে যাচাই করছি। এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয় এটি লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ, এবং এক অদম্য সংগ্রামের ফসল। এই স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি, আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক।কিন্তু আজ সেই গৌরবময় ইতিহাসই যেন নানা প্রশ্নের মুখে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি -কে অবমাননার চেষ্টা, ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা এসব কেবল একজন নেতাকে ছোট করা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়কে আঘাত করার শামিল। তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যা একটি পুরো জাতিকে স্বাধীনতার পথে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেটিকেও আড়াল বা নিষিদ্ধ রাখার অভিযোগ আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে।আজ আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে স্বাধীনতা দৃশ্যমান, কিন্তু তার চেতনা যেন ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন নানা প্রেক্ষাপটে সামনে আসছে আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন বা আড়াল করার প্রবণতা বাড়ছে। “জয়বাংলা” শ্লোগান, যা ছিল আমাদের মুক্তির শক্তি, সেটিও কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়ছে যা আমাদের জাতীয় চেতনার জন্য অশনি সংকেত।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা। নতুন করে ইতিহাস লেখার নামে যদি সত্যকে আড়াল করা হয়, যদি প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার মতো গল্প ছড়ানো হয়, তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিকড়হীন করে দেবে। একটি জাতি তখনই দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন তার ইতিহাস নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়।এই অবস্থার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো আমাদের নীরবতা। অন্যায়, অবমাননা, বিকৃতি সবকিছু চোখের সামনে ঘটলেও অনেকেই মুখ খুলতে পারে না। ভয়, অনিশ্চয়তা, কিংবা রাজনৈতিক চাপ মানুষকে সত্য বলা থেকে বিরত রাখে। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসে।এখানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।  যারা রাষ্ট্রীয়  প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায় স্বাধীনতার ইতিহাস কি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবর্তন করা যাবে? একটি জাতির আত্মপরিচয় কি এভাবে পুনর্লিখন করা সম্ভব?তাই আজ, এই মহান স্বাধীনতা দিবসে, আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা ইতিহাস বিকৃত হতে দেব না,আমরা আমাদের মহান নেতাদের সম্মান অটুট রাখব,আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করব,এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পাব না।আমাদের লক্ষ্য হোক এমন একটি বাংলাদেশ,যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ সম্মান পাবে,যেখানে ইতিহাস হবে নির্ভুল ও গৌরবময়,যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে,এবং প্রতিটি মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা তখনই রক্ষা পাবে,যখন আমরা শুধু স্বাধীন দেশে বাস করব না,বরং স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলব।কারণ, স্বাধীনতা কোনো একদিনের অর্জন নয় এটি একটি চলমান দায়িত্ব, একটি জীবন্ত চেতনা,যা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের পবিত্র।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার