Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

West Bengal Teachers: মাঝবয়সে ফের বসতে হবে পরীক্ষায়, পাশ না করলেই কি বাতিল চাকরি? মাথায় হাত ৯০ হাজার শিক্ষকের

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
West Bengal Teachers: মাঝবয়সে ফের বসতে হবে পরীক্ষায়, পাশ না করলেই কি বাতিল চাকরি? মাথায় হাত ৯০ হাজার শিক্ষকের
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করার পর এবার মাঝবয়সে এসে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষায় বসতে হবে রাজ্যের কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাতিথমিক শিক্ষকদের। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যে কর্মরত অপ্রশিক্ষিত ও টেট অনুত্তীর্ণ শিক্ষকদের জন্য নতুন করে ‘টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (টেট) গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করে দিল বিকাশ ভবন। কবে নাগাদ এই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা জানতে চেয়ে শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) চিঠি পাঠিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৯০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে। যাঁদের এই মুহূর্তে টেট-এ বসার ন্যূনতম অ্যাকাডেমিক বা প্রশিক্ষণগত যোগ্যতা নেই, তাঁরা কি তবে এবার চাকরিহারা হবেন—এই আতঙ্কেই তোলপাড় শুরু হয়েছে শিক্ষক মহলে। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, তাই দ্রুত দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই ২০০৯) এবং এনসিটিই-র নির্দেশিকা মেনেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রাথমিক সময়সীমা ২০২৭ রাখা হলেও সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে শীর্ষ আদালত। কেবল যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদেরই এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের একাংশের তীব্র ক্ষোভ, ২০১১ সালের জুলাই মাসে রাজ্যে টেট বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন চাপানো হচ্ছে? নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও শীর্ষ আদালত নিজেদের কড়া অবস্থান থেকে সরেনি। এমনকি সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনো রক্ষাকবচ সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্সও জারি করা হয়নি।

এই সরকারি উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রতারণার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শিক্ষক নেতৃত্ব। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মরত শিক্ষকদের কোনোভাবেই টেট দিতে হবে না। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল তোপ দেগে বলেন, ক্ষমতায় এসেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শিক্ষকসমাজকে চরম প্রতারণা করল সরকার। অন্যদিকে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডলের প্রশ্ন, এত বছর চাকরি করার পর যদি কোনো শিক্ষক টেট পরীক্ষায় পাশ করতে না পারেন, তবে তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে? সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে ফের বড়সড় শিক্ষক আন্দোলনের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : tetexam bengal teachers supreme couet order

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


West Bengal Teachers: মাঝবয়সে ফের বসতে হবে পরীক্ষায়, পাশ না করলেই কি বাতিল চাকরি? মাথায় হাত ৯০ হাজার শিক্ষকের

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করার পর এবার মাঝবয়সে এসে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পরীক্ষায় বসতে হবে রাজ্যের কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাতিথমিক শিক্ষকদের। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যে কর্মরত অপ্রশিক্ষিত ও টেট অনুত্তীর্ণ শিক্ষকদের জন্য নতুন করে ‘টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (টেট) গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করে দিল বিকাশ ভবন। কবে নাগাদ এই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা জানতে চেয়ে শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) চিঠি পাঠিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৯০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে। যাঁদের এই মুহূর্তে টেট-এ বসার ন্যূনতম অ্যাকাডেমিক বা প্রশিক্ষণগত যোগ্যতা নেই, তাঁরা কি তবে এবার চাকরিহারা হবেন—এই আতঙ্কেই তোলপাড় শুরু হয়েছে শিক্ষক মহলে। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, তাই দ্রুত দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই ২০০৯) এবং এনসিটিই-র নির্দেশিকা মেনেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রাথমিক সময়সীমা ২০২৭ রাখা হলেও সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে শীর্ষ আদালত। কেবল যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদেরই এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের একাংশের তীব্র ক্ষোভ, ২০১১ সালের জুলাই মাসে রাজ্যে টেট বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন চাপানো হচ্ছে? নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও শীর্ষ আদালত নিজেদের কড়া অবস্থান থেকে সরেনি। এমনকি সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনো রক্ষাকবচ সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্সও জারি করা হয়নি।এই সরকারি উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রতারণার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শিক্ষক নেতৃত্ব। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মরত শিক্ষকদের কোনোভাবেই টেট দিতে হবে না। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল তোপ দেগে বলেন, ক্ষমতায় এসেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শিক্ষকসমাজকে চরম প্রতারণা করল সরকার। অন্যদিকে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডলের প্রশ্ন, এত বছর চাকরি করার পর যদি কোনো শিক্ষক টেট পরীক্ষায় পাশ করতে না পারেন, তবে তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে? সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে ফের বড়সড় শিক্ষক আন্দোলনের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত