কলকাতা: ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের ভোটপ্রচারে আহত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত লাগার ঘটনা ঘিরে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয় রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার অভিযোগে এসএসকেএম হাসপাতাল, বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এবং স্বাস্থ্য ভবনকে কড়া আইনি নোটিস পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগ। বিনা অনুমতিতে এবং রোগীর সম্মতি ছাড়া একজন নাগরিকের সংবেদনশীল মেডিক্যাল রিপোর্ট কীভাবে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে। উপনির্বাচনের মুখে শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের ১১ মার্চের এসএসকেএমের একটি রেডিও ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন যে, মমতার পায়ে কোনও হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলেনি। সেই সময় মিথ্যা প্রচার করে নন্দীগ্রামের মানুষকে অপমান করা হয়েছিল অভিযোগ তুলে গোটা ঘটনার সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতা শান্তনু সেনও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করে কটাক্ষ ছুড়ে দেন। এই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।আইনজীবী অর্ক নাগের পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রতিটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আইনত কোনো নথি থাকা মানেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার অধিকার জন্মায় না। এ ছাড়া ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিল রুলস ২০০২’ উল্লেখ করে চিঠিতে জানানো হয়, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণ গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে।অন্যদের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা জানান, ২০২১ সালে মানুষ যাকে বিশ্বাস করেছিলেন, আজ সেই সত্য সামনে এসে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া দেওয়া স্বাভাবিক। এই ঘটনার তদন্ত সিআইডি করছে এবং আগামী দিনে এর সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ্যে আনা হবে বলে জানান তিনি। হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবন এই আইনি নোটিসের যথাযথ জবাব দেবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছর পুরানো চোটের মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁসের জল এবার কলকাতা হাই কোর্টের আইনি অলিন্দ পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।[TECHTARANGA-POST:13352]