২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আজ ছিল উত্তেজনায় ভরপুর একটি দিন। মাঠে গড়িয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কোথাও দেখা গেছে গোলের বন্যা, কোথাও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়, আবার কোথাও শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত চলেছে সমানে সমান লড়াই। দিনের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। অন্যদিকে সুইডেনও দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে। আইভরি কোস্ট শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, আর নেদারল্যান্ডস ও জাপান ভাগাভাগি করেছে পয়েন্ট।[TECHTARANGA-POST:9968]সাত গোলের ঝড়ে কুরাসাওকে উড়িয়ে দিল জার্মানিবিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দিল জার্মানি। নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা চমক দেখলেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপের শক্তিশালী দলটির সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা।ম্যাচের শুরুতে কুরাসাও গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের স্বাদ পায়। সেই মুহূর্তে স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হজম করার পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে জার্মানি।একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরার পর জার্মানরা ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।[TECHTARANGA-POST:9956]এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, গোল ব্যবধানেও বড় সুবিধা পেল জার্মানি। বিশ্বকাপের শুরুতেই তারা বুঝিয়ে দিল, শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের আবারও শক্ত দাবিদার হিসেবে দেখতে চায়।পাঁচ গোলের উৎসবে সুইডেনদিনের আরেকটি একতরফা ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে সুইডেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইউরোপের দলটি।প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় সুইডিশদের। দ্রুত আরও কয়েকটি গোল করে তারা ম্যাচকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তিউনিসিয়া একটি গোল শোধ করলেও সেটি ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের গতি, পাসিং এবং আক্রমণভাগের সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।[TECHTARANGA-POST:9954]এই বড় জয় সুইডেনকে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।শেষ মুহূর্তের গোলে আইভরি কোস্টের উল্লাসআইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের ম্যাচটি ছিল দিনের সবচেয়ে স্নায়ুচাপের লড়াইগুলোর একটি।পুরো ম্যাচজুড়েই দুই দল সমানতালে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। মাঝমাঠের লড়াই ছিল দারুণ উপভোগ্য। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও দুই দলের গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না।যখন সবাই ড্রয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তে আসে নাটকীয়তা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আইভরি কোস্ট।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন আফ্রিকার দেশটির খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়।[TECHTARANGA-POST:9950]শেষ মুহূর্তে হার এড়াল জাপানদিনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি উপহার দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান।শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। একবার এগিয়েছে নেদারল্যান্ডস, আবার সমতায় ফিরেছে জাপান। ম্যাচের গতি ও উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল।ম্যাচের শেষ দিকে নেদারল্যান্ডস জয় নিশ্চিত করতে চলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জাপানের দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে আসে সমতাসূচক গোল। ফলে ২-২ গোলে ড্র হয় ম্যাচটি।এই ফলাফলে দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেলেও মাঠে তাদের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।ফুটবলের মহারণ! যে বলে গড়াবে বিশ্বকাপ ২০২৬, জানুন বলটির বিশেষত্ববিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। আজকের ম্যাচগুলোতে শক্তির প্রদর্শন করেছে জার্মানি ও সুইডেন। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট দেখিয়েছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে ফল পাওয়া যায়। আর জাপান প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ম্যাচই শেষ নয়। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসর ধীরে ধীরে জমে উঠছে ফুটবলের এক মহারণে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার