Abhishek Banerjee: কলকাতায় ফিরতেই ‘জ্ঞানেশ-বোমা’ ফাটালেন অভিষেক!
কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ সফরে থাকা কালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়কে নিয়ে রাজ্য সিআইডি-র জেরার জল বহু দূর গড়িয়েছিল। সিআইডি আদালতকে দাবি জানিয়েছিল, রাজকীয় অর্থ লেনদেনের পিছনে নাকি খোদ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নির্দেশ রয়েছে! রাজ্য রাজনীতির হাওয়া যখন এই ইস্যুতে উত্তপ্ত, ঠিক তখনই বিদেশে নিজের কাজ সেরে কলকাতায় পা রাখতেই পাশা উল্টে দিলেন অভিষেক। সিআইডি-র সেই বিস্ফোরক দাবির কোনো পাল্টা কৈফিয়তে না গিয়ে, সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে একের পর এক বোমার সলতে পাকাতে শুরু করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এপ্রিল মাসের একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাটের চাঞ্চল্যকর স্ক্রিনশট পোস্ট করে তোলপাড় ফেলে দেন অভিষেক। ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ কড়া বার্তা দিয়ে দাবি করেন, স্রেফ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে নির্বাচন কমিশন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আড়ালে প্রায় ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম ছাঁটাইয়ের নীলচাপড়া তৈরি করেছিল! পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি হরিয়ানা ও বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে বাছাই করে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর তোপ।ফেসবুক ও এক্স প্ল্যাটফর্মে কড়া ভাষায় অভিষেক লেখেন, “এই তথ্যগুলিকে আড়াল করা বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না, কিংবা নীরবতা পালন করে পার পাওয়া যাবে না। দেশের মানুষের সামনে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) আজ উত্তর দিতেই হবে। ভারত সব দেখছে এবং সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করছে!” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ স্পষ্ট দাবি তোলেন, এই গভীর ষড়যন্ত্রের জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ অবশ্য এই নতুন ঘটনাক্রমকে টাইমিংয়ের মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেই দেখছেন। একদিকে যখন তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি দাবি করছিল যে দলীয় তহবিলের অর্থ সংক্রান্ত নির্দেশের নেপথ্যে অভিষেকের নাম রয়েছে, তখন বিদেশে থাকা অভিষেক নীরবই ছিলেন। কিন্তু কলকাতায় ফিরেই জাতীয় নির্বাচন সদনের গৃহযুদ্ধ ও জ্ঞানেশ কুমারের ‘অস্বচ্ছতা’র নথি প্রকাশ্যে এনে পুরো রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুটাই ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। রাজ্য বিজেপির ‘বাংলা দখল’ করার স্বপ্নকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “যাঁদের সাংবিধানিক পদে বসিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে নেমেছিল, তাঁরা এখন শ্রীঘরে যাওয়ার মুখে। বিজেপির করুণ দশা দেখে বোঝা যাচ্ছে, বাংলার অভিশাপ লেগে গেছে।” সব মিলিয়ে, সিআইডি-র তদন্তের কৌশলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে সোজা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক প্রমাণ করে দিলেন, জল কোন দিকে গড়াবে, তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করবেন!