Hidden Stories (বাংলা)

Bhawana Kanth:দেবীপক্ষে এক নতুন ‘উমা’র উত্থান! দেশের প্রথম মহিলা ফাইটার কমব্যাট লিডার হয়ে ইতিহাস ভবনা কান্থের

নয়াদিল্লি: শরতের আলোর দ্যুতি আর ঢাকের বাদ্যির মাঝে আগমনী সুর বেজে উঠেছে দেশজুড়ে। দেবীপক্ষে যখন মাতৃশক্তির আবাহনে মেতেছে তিলোত্তমা থেকে সমগ্র ভারত, ঠিক তখনই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন ‘উমা’র বীরগাথা লেখা হলো আকাশসীমায়। শৈশবে বিহারের গ্রামে আকাশে যুদ্ধবিমানের ছুটে চলা দেখে যে ছোট্ট মেয়েটি ডানা মেলার স্বপ্ন বুনেছিল, সেই ভবনা কান্থ (Bhawana Kanth) তৈরি করলেন নতুন ইতিহাস। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসের পাতায় প্রথম মহিলা ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার’ (FCL) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করে এক অনন্য নজির গড়লেন স্কোয়াড্রন লিডার ভবনা কান্থ।গোয়ালিয়রের অত্যন্ত সম্মানজনক ‘ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট’ (TACDE) থেকে অ্যাডভান্সড ট্রেনিং বা উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ সাফল্যজনক ভাবে শেষ করে এই যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। এই বিশেষ কমব্যাট লিডারশিপ প্রশিক্ষণ বিমান চালকদের জটিল আকাশযুদ্ধ, নিখুঁত সামরিক কৌশল প্রণয়ন এবং আকাশপথে আক্রমণাত্মক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।তবে এই সাফল্যের পথ সুগম ছিল না। ছোটবেলায় ভবনা জানতেনই না যে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান চালানোর ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রবেশাধিকারই ছিল না! তাঁর বিশ্বাস ছিল, বায়ুসেনায় যোগ দেওয়া মানেই সোজা ফাইটার জেটের ককপিটে বসা। বিহারে বেড়ে ওঠা, মেডিক্যাল ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর বায়ুসেনার ট্রেনি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি জানতে পারেন কঠিন বাস্তবটি। কিন্তু অধ্যাবসায় আর অদম্য জেদ তাঁকে পিছু হটতে দেয়নি। ২০১৬ সালে কেন্দ্র সরকার যখন বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে নারীদের জন্য দরজা খুলে দেয়, তখন প্রথম দফাতেই অবনী চতুর্ভেদী ও মোহনা সিংয়ের সঙ্গে দেশের প্রথম তিন জন মহিলা ফাইটার পাইলটের একজন হিসেবে কমিশন পান ভবন।এর পর থেকেই ভবনার সাফল্যের গ্রাফ শুধুই ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৮ সালের মার্চে মিগ-২১ বাইসন (MiG-21 Bison) বিমানে প্রথম একক উড্ডয়ন (Solo Flight) করেন তিনি। ২০১৯ সালের মে মাসে দেশে প্রথম মহিলা হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমানের সমস্ত রকম কমব্যাট মিশন সম্পন্ন করার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২০ সালে পান ‘নারী শক্তি পুরস্কার’। ২০২১ সালে সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেড ও ফ্লাইপাস্টে প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি তৈরি করেন নতুন মাইলফলক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিগ-২১ ছাড়িয়ে সুপারসনিক সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30MKI)-র ককপিটও নিয়ন্ত্রণে এনেছেন তিনি।জীবনের এই দীর্ঘ লড়াই থেকে আগামী প্রজন্মের কাছে ভবনার বার্তা, “ব্যর্থতা বা ভুলের ভয়ে পিছিয়ে আসার কিছু নেই। প্রতিটা ক্যারিয়ারেই পতনের মুখ দেখতে হয়, সেখান থেকেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আবার এগিয়ে চলতে হবে।” দেবীপক্ষে ভবনার এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে দিল, অপ্রচলিত বা কঠিন যে কোনো পেশা কেবল তখনই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, যখন সেখানে নারীশক্তির অপরাজেয় পদচারণা ঘটে। ভারতের আকাশসীমায় পাহারাদারের ভূমিকায় এই নতুন ‘উমা’র উত্থান সমগ্র দেশের কাছে এক চরম গর্বের অধ্যায়।

Bhawana Kanth:দেবীপক্ষে এক নতুন ‘উমা’র উত্থান! দেশের প্রথম মহিলা ফাইটার কমব্যাট লিডার হয়ে ইতিহাস ভবনা কান্থের