Bihar Horror: ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বিহারে বিপন্ন নারীসুরক্ষা! পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাঠশালা, অবাধে গুন্ডারাজ!
পাটনা: নারীদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় থাকা বিহারের এনডিএ সরকার আজ প্রশ্নের মুখে। রাজ্যজুড়ে একি অরাজকতা ও নৈরাজ্যের রাজত্ব চলছে? কখনও পর্যটনকেন্দ্রে তরুণীকে ঘিরে ধরে চটি দিয়ে নির্মম মারধর, তো কখনও কোচিং থেকে ফেরার পথে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি! পর পর বেশ কয়েকটি নারকীয় ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শিউরে উঠছে পুরো দেশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নারী নিরাপত্তার ইস্যুতে রাজ্যের বিজেপি-জেডিইউ মহাজোট সরকার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার চাঁচাছোলা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকা জেলার বিখ্যাত পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্র মান্দার হিলে। গত ৩ সেপ্টেম্বর সেখানে ঘুরতে গিয়ে কয়েকজন যুবকের বর্বরতার শিকার হন এক তরুণী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, অন্তত ছয়জন যুবক এক তরুণীকে ঘিরে ধরে চরম অশালীন আচরণ করছে এবং তাকে চটি দিয়ে বেদম মারধর করছে। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ২২ সেপ্টেম্বর ভিডিয়োটি পুলিশের হাতে পৌঁছালে বাউন্সি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানটি শনাক্ত করে। অথচ, পর্যটনকেন্দ্রের মতো জনবহুল স্থানে দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটে গেলেও এতদিন কেন টের পেল না স্থানীয় প্রশাসন? কোথায় ছিল পুলিশি টহল? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। ঘটনার সুমোটো মামলা রুজু করে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৭৪, ৭৫, ৭৬ ধারা এবং আইটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ছ’জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ঠিকই, কিন্তু মূল অপরাধীরা এখনও অধরা।একই ছবি ধরা পড়েছে বিহারের জমুই এবং সমস্তিপুরেও। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জমুইয়ে কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার পথে এক দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তার বন্ধুকে মাঝরাস্তায় ঘিরে ধরে দুষ্কৃতীরা। প্রকাশ্যে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি করা হয়, আর তার বন্ধু বাধা দিতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। দুষ্কৃতীরা নিজেরাই সেই অত্যাচারের ভিডিয়ো তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। পুলিশি এনকাউন্টারে দু’জন মূল অভিযুক্ত আহত হয়ে গ্রেফতার হলেও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করছে যে অপরাধীদের মনে আইনের বিন্দুমাত্র ভয় অবশিষ্ট নেই। একইভা্বে সমস্তিপুরে চার বাইক আরোহী যুবক এক তরুণী ও তরুণকে ঘিরে ধরে হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।পর পর এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ডাবল ইঞ্জিনের সুশাসনে বিহারে অপরাধীদের বোলবোলা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। নারী সুরক্ষার ঢাক ঢোল পেটানো বিজেপির পুলিশ প্রশাসন কি তবে কেবল নীরব দর্শক? কেন অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হওয়ার সাহস পাচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো ভাইরাল না হওয়া পর্যন্ত কেন ঘুম ভাঙে না পুলিশের?যে রাজ্যে পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে বা পড়াশোনা করে বাড়ি ফেরার পথে নারীদের সম্ভ্রম ও জীবন বিপন্ন হয়, সেখানে আইনি শাসনের অস্তিত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বিহারের আমজনতা এখন জানতে চায়, নারীদের এই নিরাপত্তাহীনতার দায়ভার কি নেবে রাজ্য সরকার, নাকি ভোটের বুলবুলিতেই ঢাকা পড়ে যাবে এই জঙ্গলরাজ?