Hidden Stories (বাংলা)

CJP protest: আটক নয়, গ্রেফতার! পাঁচদিনের হেফাজতে সৌরভ-রাঙ্কা, পাঁচদিনের জেল হেফাজত

নয়াদিল্লি: অসহমত দমনের পুরনো পথেই হাঁটল কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ সংশোধনী’ (SIR) ড্রাইভ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা কণ্ঠ স্তব্ধ করতে এবার আগ্রাসী দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরে ঘেরাটোপ ভেঙে প্রতিবাদ জানানোর ‘অপরাধে’ ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই প্রথম সারির নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল দিল্লি আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া অপর সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্দে অবশ্য ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন। তবে বিরোধীদের স্পষ্ট অভিযোগ, সিজেপি নেতাদের জেলে পুরে আপাতত নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা বিক্ষোভ প্রশমিত করতেই এই দমনপীড়ন চালাচ্ছ মোদী সরকার।ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে। সদ্য বিক্ষোভের তালিকা থেকে বাদ পড়া যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে ঢোকেন সিজেপি-র তিন প্রতিনিধি সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ব্যারিকেড ভেঙে স্লোগান দেওয়া শুরু হতেই অতি-সক্রিয় পুলিশ তাঁদের টেনেহিঁচড়ে তোলে গাড়িতে। এরপর শুরু হয় প্রশাসনিক টানাপোড়েন। আইনজীবীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত তিনজনকে আইনি পরামর্শ তো দূর, দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। রাত ৩টে নাগাদ একটি বেসরকারি ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকালে মন্দির মার্গের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে পুলিশ দাবি করে, এঁরা ‘পুনরাবৃত্তি অপরাধী’ (রিপিট অফেন্ডার)। সম্প্রতি এক বছরের জন্য পিস বন্ড (শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা) সই করলেও তা ভেঙে বেআইনি অনুপ্রবেশ ও সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। ফলে পুলিশি আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করেই তাঁদের দেওয়া হয় পাঁচ দিনের জেল হেফাজত।আইনজীবী অভীষ্ট হেলা এই পদক্ষেপকে ‘আইনের প্রহসন’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর তোপ, “পুলিশ সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর হয়ে মিথ্যা দাবি করেছে। এরা নাকি জনসমাগমের ডাক দিয়েছিল, যার কোনো প্রমাণ নেই। স্রেফ ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করতে পুরনো অন্য অভিযোগকে জোর করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।” একই সুর সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের কণ্ঠেও। এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে থানার ভেতরের ছবি পোস্ট করে সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর চাঁচাছোলা প্রশ্ন, “জরুরি অবস্থা জারি করার এতই শখ হলে তা সরকারিভাবে ঘোষণা করুন, এভাবে কাপুরুষের মতো আচরণ করবেন না! শুধু জাতীয় পতাকা হাতে ধরার অপরাধে কাউকে জেলে পোড়া হয় কীভাবে?”প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে ছেঁটে রামলীলা ময়দান ও বুরারি গ্রাউন্ডের মতো ফাঁকা জায়গায় ধরণা সরানোর নির্দেশ জারি করেছিলেন। সিজেপি-র দাবি, রাজধানীর বুক থেকে আন্দোলন সরিয়ে তার দৃশ্যমানতা কমাতেই মোদী প্রশাসনের এই চাল। আপাতত তিন নেতা গ্রেফতার হলেও সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষায় এই ‘ককরোচ’ আন্দোলনের তেজ এত সহজে কমানো যাবে না।

CJP protest: আটক নয়, গ্রেফতার! পাঁচদিনের হেফাজতে সৌরভ-রাঙ্কা, পাঁচদিনের জেল হেফাজত