Suvendu Adhikari: চন্দ্রনাথ খুনে সুপারি ভাইপো গ্য়াংয়ের! জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বিরোধীদের, নন্দীগ্রামে হুঙ্কার শুভেন্দুর
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর: "চন্দ্রকে যে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, তার একমাত্র কারণ ছিল সে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে থেকেছে, আমাকে সহযোগিতা করেছে। সেই অপরাধেই সুপারি দিয়ে অকালে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওকে! কিন্তু ওর পরিবারের পাশে থাকা এবং অন্যায়ের বিচার সুনিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার।" আগামী ৬ অক্টোবরের জোড়া উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবিতে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেই ভোটপ্রচারে ঝড় তুলেছে বিজেপি। মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের ভূমিপুত্র তথা শুভেন্দুর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের পরেই মধ্যমগ্রামে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল, যার তদন্ত করছে সিবিআই। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে প্রয়াত সহায়কের প্রবীণ মা হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, "চন্দ্রনাথের ওপর যে নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল ওই 'ভাইপো গ্যাং'-এর সুপারি।" একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসন ছিনিয়ে আনতে বিজেপির অভিজ্ঞ মুখ তথা রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের ওপর আস্থা রেখে দুই কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে জয়ের হুঙ্কার দিল পদ্মশিবির।মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে চার মাসের নবগঠিত বিজেপি সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ নতুন গ্যারান্টি ঘোষণা করেন। বিরোধী শিবিরকে তোপ দেগে তিনি বলেন, "সরকার গঠনের মাত্র চার মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, হাতে এখনও ৫৬ মাস বাকি রয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের ৬৭ হাজার দিদি ও বোনকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ৮,০০০ অর্ধসমাপ্ত বাড়ি এবং ১৩,৭০০টি সম্পূর্ণ নতুন বাড়ির জন্য টাকা সরাসরি বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বহুল প্রতীক্ষিত হরিপুর ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন চালুর পাশাপাশি নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজের কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে 'রাইটস'কে দিয়ে সমীক্ষার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।"তৃণমূলের আমলে নন্দীগ্রামের নির্যাতিত দলীয় কর্মীদের সমস্ত মিথ্যে মামলা ঝেড়ে ফেলার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা, "নন্দীগ্রামের প্রতিটি অবহেলিত পরিবারের হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথায় ছাদ দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীর।" নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও চাল চালার দক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হাসতে হাসতেই বলেন, "বৃক্ষ তুমি কে, ফলে পরিচয়! ২১-এর নির্বাচনে হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছিলাম, আর এবার তো গঙ্গা পেরিয়ে নিজের পাড়ায় গিয়ে হারিয়ে দিয়ে এসেছি। আমি ভোট করাতে জানি! এমন মার্জিনে বিজেপি এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জিতবে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, আর এখনও কেউ ভাবতে পারছে না।"আগামী মাসের ৬ তারিখের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "সরকারের সঙ্গে থাকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি হাতে হাত মিলিয়ে নিজের নিজের এলাকার উন্নয়ন করিয়ে নেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসে গেছে। আশা করি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা এবার ঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং এই পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হবেন।" অন্যদিকে, রেজিনগর আসনে বিজেপি বাজি ধরেছে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান বিজেপি রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের উপর। বাবার হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিতে আসা শাখারভবাবু জেলা জুড়ে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে একদিকে নন্দীগ্রামে শোক আর আবেগকে শক্তিতে পরিণত করে হাসিরানি রথ, আর অন্যদিকে রেজিনগরে লড়াকু সংগঠক শাঁখারভ সরকারকে ময়দানে নামিয়ে শাসকদলকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে দিল পদ্মশিবির।