Hidden Stories (বাংলা)

Chorbagan Durga Puja Ashtami empty: খাঁ-খাঁ করছে মণ্ডপ, অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়া হল না চোরবাগানের, সৌরভের কণ্ঠেও শোকের সুর

কলকাতা: মহাষ্টমীর সুপ্রভাতে যখন রাজ্য জুড়ে ঢাকের কাঠি আর কাঁসরের বাদ্যিতে ঢাকল চতুর্দিক, যখন পাড়ায় পাড়ায় পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের হিড়িক,তখন সম্পূর্ণ এক ভিন্ন এবং নিস্তব্ধ রূপ ধারণ করল উত্তর কলকাতার চোরবাগান। পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবার আর মহাঅষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়া হল না চোরবাগান সর্বজনীনের বাসিন্দাদের। উৎসবের আলো ঝলমলে কলকাতায় এই এলাকাটিতে যেন থমকে গিয়েছে সময়। সুবিশাল পুজো মণ্ডপ আজ ফাঁকা, সুনসান। প্রতিমার সামনে নেই মন্ত্রোচ্চারণের উচ্চকিত শব্দ, নেই ঢাকের শব্দ বা চেনা কোলাহল। বদলে পুরো চোরবাগান জুরে এক থমথমে নীরবতা ও আতঙ্কের ছায়া।দুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে এখন কড়া পুলিশি পাহারা। স্থানীয় প্রতিবেশীদের মন খারাপের পারদ চরমে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে যে প্রশাসনিক তৎপরতা আজ দেখা যাচ্ছে, তা যদি দুর্ঘটনার আগে দেখানো হতো, তবে হয়তো আজ এই ভয়াবহ পরিণতি হতো না, এমনটাই আফসোস স্থানীয়দের। ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত পাড়া-পড়শিদের বক্তব্য, "মণ্ডপে বাইরের দর্শনার্থীদের ঢোকার দরকার নেই, কিন্তু পাড়ার পুজোটা তো অন্তত নিয়ম মেনে হতে দেওয়া যেত!" নিজ পাড়ার ঐতিহ্যবাহী পুজোয় অঞ্জলি দিতে না পেরে আক্ষেপের সঙ্গেই পার্শ্ববর্তী অন্য মণ্ডপে গিয়ে অষ্টমীর অঞ্জলি সারতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কড়াকড়ির পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আরও অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকা উচিত ছিল।অন্য দিকে, উৎসবের আনন্দের মাঝেও চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ছুঁয়ে গিয়েছে বেহালা থেকে গোটা শহরকে। মহাঅষ্টমীর সকালে প্রতি বছরের মতো নিজ পাড়া বেহালা প্লেয়ার্স কর্নারের পুজোয় সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও মেয়ে সানা গঙ্গোপাধ্যায়। অষ্টমীর শুভ লগ্নে মণ্ডপে উপস্থিত থেকে সন্ধিপুজোয় অংশ নেন সৌরভ, হাঁটু গেড়ে প্রণাম জানান দেবী প্রতিমার সামনে।পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেন ‘দাদা’। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সকলকে সচেতন হওয়ার আবেদন জানান তিনি। সৌরভ বলেন, "উৎসবে আনন্দ করুন, কিন্তু ভিড়ের মধ্যে সকলকে অত্যন্ত সাবধানে ও সতর্কভাবে ঠাকুর দেখতে হবে।" তিনি আরও জানান, পুজোর বাকি দিনগুলি তিনি নিজের বাড়িতে এবং পাড়ার পুজোতেই কাটাচ্ছেন। উৎসবের জোয়ারে একদিকে যখন বেহালায় সৌরভ-ডোনার উপস্থিতিতে আনন্দের আমেজ, ঠিক তখনই চোরবাগানের বিষাদগ্রস্ত শূন্যতা পুরো কলকাতার বুক চিরে রেখে দিল এক গভীর ক্ষত।

Chorbagan Durga Puja Ashtami empty: খাঁ-খাঁ করছে মণ্ডপ, অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়া হল না চোরবাগানের, সৌরভের কণ্ঠেও শোকের সুর