ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের পথে ইরান! ‘তাতে আমাদের কী?’— খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর কড়া তাচ্ছিল্য ট্রাম্পের
ওয়াশিংটন/তেহরান: যুদ্ধের ময়দান থেকে এবার খেলার মাঠ—সংঘাতের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হানায় ইরানে বইছে রক্তগঙ্গা, মৃত্যু হয়েছে সেদেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। এই ঘটনার প্রতিবাদে আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করার পথে হাঁটতে পারে ইরান। তবে ইরানের এই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টে ইরানকে ‘বিশ্রীভাবে হেরে যাওয়া দেশ’ বলে তোপ দাগলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7014]আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু মেগা টুর্নামেন্টের মাত্র কয়েক মাস আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। গত শনিবার গভীর রাতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই ইরানে শোকের ছায়া ও আক্রোশ দুই-ই বাড়ছে। সূত্রের খবর, ইরানের ফুটবল সংস্থা ইতিমধ্যেই আমেরিকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ‘হত্যাকারী’ দেশে গিয়ে ফুটবল খেলা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেদেশের ফুটবল কর্তারা।[TECHTARANGA-POST:7013]ইরানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলল কি না, তাতে আমেরিকার বা আয়োজকদের কিছুই এসে যায় না। ট্রাম্পের সাফ কথা:[TECHTARANGA-POST:7012]“ওরা খেলতে এল কি না, সেটা নিয়ে সত্যিই আমাদের কিছু যায় আসে না। আমার মনে হয় ইরান খুব বিশ্রীভাবে হেরে যাওয়া একটা দেশ। ওরা এখন আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটছে। বিশ্বকাপে খেলতে এলেও ওদের দশা একই হতো।”[TECHTARANGA-POST:7010]যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ইরানের ফুটবলারদের মার্কিন ভিসা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও ইরানের মহিলা ফুটবল দল বর্তমানে এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু পুরুষ দলের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ফুটবল কর্তাদের মতে, মার্কিন আক্রমণের ফলে পরিস্থিতি এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দোরগোড়ায়। এই অবস্থায় শত্রু দেশে গিয়ে বল পায়ে দৌড়ানো কতখানি যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে সন্দিহান তেহরান।রাজনীতির দাবার চালে শেষ পর্যন্ত কি ফুটবল বলির পাঁঠা হবে? বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়ামহলে।