Kalyan Arrest: পালিয়েও রেহাই নেই, রাজস্থান থেকে গ্রেফতার গুরুগ্রামের অভিযুক্ত কল্যাণ
গুরুগ্রাম: রাজস্থানে আত্মগোপন করেও শেষরক্ষা হলও না। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করা গুরুগ্রামের হাড়হিম হিট-অ্যান্ড-রান কাণ্ডে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত চালক কল্যাণ বৈঁসলা। রাজস্থানের দৌসা এলাকা থেকে মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে গুরুগ্রাম পুলিশের একটি বিশেষ দল। এক তরুণী স্পোর্টস বাইকারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধাক্কা মেরে পিষে মারার চেষ্টার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় সরাসরি ‘খুনের চেষ্টা’র (Section 307) অমার্জনীয় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার অধীনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল হতে পারে।গত রবিবার গুরুগ্রামের গলফ কোর্স রোডে বন্ধুদের সঙ্গে এপ্রিলিয়া ৪৫৭ স্পোর্টস বাইক নিয়ে রাইডে বেরিয়েছিলেন শিবানী চৌহান ওরফে সিয়া। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, একটি দ্রুতগামী সাদা সেডান হঠাৎই ডানদিকে ঘুরে সিয়ার বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে ছড়াতে রাস্তায় স্কিড করে অনেক দূর ছিটকে পড়েন হেলমেট পরিহিতা সিয়া। কিন্তু গাড়ি থামানো তো দূরের কথা, সিয়াকে সেই অবস্থায় রেখেই চম্পট দেয় চালক কল্যাণ। এরপরেই রাজস্থানে গিয়ে লুকিয়ে ছিল এই অভিযুক্ত।আন্তর্জাতিক কাবাডি খেলোয়াড় ও জিম মালিক বলে নিজেকে দাবি করা কল্যাণ অবশ্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে সংবাদমাধ্যমে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তার দাবি ছিল, বাইকাররা তার গাড়িকে বার বারবার ওভারটেক করে গতি কমাচ্ছিল এবং সে বুঝতে পারেনি বাইকচালক একজন মেয়ে। উপরন্তু, বাইকারদের আক্রমণের ভয়েই সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে সহানুভূতি প্রকাশ করে ভিডিওবার্তা দেয়।তবে কল্যাণের এই সাফাইকে বিন্দুমাত্র আমল না দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আক্রান্ত সিয়া ও তাঁর বাবা রোশন চৌহান। সিয়া স্পষ্ট জানান, “ঘটনার সময় গাড়িটি ক্রমাগত আমাকে অনুসরণ করছিল এবং ভেতরে থাকা চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। সহানুভূতি দেখানোর নাটক তাকে শোভা পায় না। অপরাধবোধ থাকলে সে সেদিন গাড়ি থামিয়ে দেখত আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি। আমার হাড় ভেঙে যেতে পারত, আমি ঘটনাস্থলেই মারা যেতে পারতাম। গোটা বাইকিং কমিউনিটি আমার পাশে আছে, অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই থামাব না।”গুরুগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক সন্দীপ মালিক জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে যে গাড়িটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বাইকের ওপর তুলে দেওয়া হয়েছিল। আইন অমান্য ও নারী সুরক্ষায় ব্যাঘাত ঘটানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। রাজস্থান থেকে গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিস।