Australia vs South Africa: ছ’বছর পর প্রোটিয়াদের মাটিতে লাল বলের লড়াইয়ে দুরন্ত কামিন্সরা! ডারবানে থামল ভাবুমার স্বপ্নের রথ
ডারবান: ২০১৮ সালের বহুল চর্চিত সেই ‘স্যান্ডপেপার’ কেলেঙ্কারির পর দীর্ঘ ছ’টি বছর কেটে গিয়েছে। এই ছয় বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোনও টেস্ট সিরিজ খেলেনি অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ছ’বছর পর লাল বলের ক্রিকেটে প্রোটিয়া দুর্গে ফিরেই নিজেদের দাপট বজায় রাখল প্যাট কামিন্স বাহিনী। কিংসমিডের পঞ্চম দিনে জশ হেজেলউডের বিষাক্ত পেস বোলিংয়ের সামনে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই পরাজয়ের সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে গেল অধিনায়ক হিসেবে তেম্বা ভাবুমার টানা ১২ টেস্টে অপরাজিত থাকার ঐতিহাসিক ‘স্বপ্নের রথ’। সেই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) তালিকায় নিজেদের এক নম্বর স্থান আরও শক্ত করে ফেলল ব্যাগি গ্রিনরা।জয়ের জন্য ৪২১ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনে ২০৬ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ১৯০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন অজি ব্যাটার ম্যাট রেনশ। বল হাতে আবার নিজের প্রথম টেস্ট উইকেটটি নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ভাবুমাকে ফিরিয়ে দিয়ে। এরপর বল হাতে তাণ্ডব চালান স্পিডস্টার জশ হেজেলউড। তিনি একাই ৪৯ রান খরচ করে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে গুঁড়িয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্ত প্রতিরোধ। ক্যাচ তালুবন্দি করে টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডার হিসেবে সর্বাধিক ক্যাচের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন স্টিভ স্মিথ।ম্যাচের শেষ দিনে এইডেন মারক্রাম (৭৫) ও উইয়ান মুল্ডার (২৯) এক প্রকার রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হেজেলউড আসতেই এই জুটি ভাঙে। মাত্র ১৬ বলের ব্যবধানে শেষ ৪টি উইকেট হারিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন-আপ। শেষ রক্ষা করতে পারেননি আইডেন মারক্রামও। স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেজেলউডের দাপটে কিংসমিডের মাটি স্পর্শ করতে বাধ্য হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল কামিন্স ব্রিগেড। ৮১.৮২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে ব্যাগি গ্রিনরা। অন্যদিকে, ডারবানে এই বিপর্যয়ের ফলে ডাব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বরে নেমে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা (৬০.০০%), আর তাদের টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো নিউজিল্যান্ড। ছ’বছর আগের কালো অধ্যায় মুছে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কামিন্সদের এই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছে।